
হুগলি , ১০অক্টোবর (হি.স.): মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা হতেই দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পথে নামল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। শনিবার শ্রীরামপুরের শতবর্ষ প্রাচীন আরএমএস মাঠের পুজো-সহ শহরের একাধিক পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শ্রীরামপুরের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
শ্রীরামপুর রেলস্টেশনের পাশে মার্কেট কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত আরএমএস মাঠের পুজো দেখতে প্রতি বছরই বহু মানুষের সমাগম হয়। এবার এই পুজোয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসতে পারেন বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও নির্গমনের পথ কতটা সুষ্ঠু, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা কেমন এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখেন পুলিশ কমিশনার।
পরিদর্শন শেষে সুনীল কুমার যাদব জানান, এবছর চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১,৭০০টিরও বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১,৫৫৮টি। গত বছর ১,৫৩২টি পুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিটি পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখা হচ্ছে। থানার আইসি ও ওসিরা রাস্তায় থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। বিদ্যুৎ দপ্তর ও দমকলের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়েও যৌথভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখে পুজোকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
যান নিয়ন্ত্রণ ও সিসিটিভিতে বিশেষ নজর
এবার পুজোর সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। প্রতিটি বারোয়ারি পুজো কমিটিকে মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ও রাজ্য সড়কের উপর কোনও তোরণ বা ওভারহেড গেট তৈরি করা যাবে না। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পূর্ত দপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
পুজোর অনুমতি চেয়ে জমা পড়া আবেদনগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তার পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, তখন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এই তৎপরতায় নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের সুষ্ঠু যাতায়াতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের আশা, সমন্বিত উদ্যোগে এবারের দুর্গাপুজো শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA