(আপডেট) কংগ্রেসের হারের কারণ নির্বাচন কমিশন নয়, তাদের অবিবেচক নেতৃত্ব: শিবরাজ সিং চৌহান
নয়াদিল্লি, ১২ অক্টোবর (হি.স.): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার বলেছেন যে, কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ নির্বাচন কমিশন নয়, বরং দলের অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্ব। পরাজয়ের দায় স্বীকার না করে
Shivraj Singh Chouhan will attend the birth anniversary celebrations of Karpuri Thakur in Bihar today


নয়াদিল্লি, ১২ অক্টোবর (হি.স.): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার বলেছেন যে, কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ নির্বাচন কমিশন নয়, বরং দলের অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্ব। পরাজয়ের দায় স্বীকার না করে কংগ্রেস সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাগাতার নির্বাচনী পরাজয়ে হতাশ হয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করার অভিযোগ তোলেন। শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, বারবার নির্বাচনে হেরে যাওয়া এবং তারপর রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করা কংগ্রেসের রাজনৈতিক কার্যশৈলীতে পরিণত হয়েছে। অসম, ত্রিপুরা, রাজস্থান এবং হিমাচল প্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের উল্লেখ করে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন।

কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, দলটির অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার না করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। প্রবীণ এই বিজেপি নেতা বলেন, নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা। তিনি পরামর্শ দেন যে, কংগ্রেসের উচিত নির্বাচন কমিশন বা অন্য কোনো সাংবিধানিক সংস্থার ওপর ভিত্তিহীন অভিযোগ না চাপিয়ে, নিজেদের পরাজয়ের কারণগুলো নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা।

মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, দেশের অনেক রাজ্যেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গুজরাট, নাগাল্যান্ড, গোয়া এবং দিল্লির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন যে অনেক রাজ্যেই এখন শরিক দলের তুলনায় কংগ্রেসের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল। ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিরোধী জোটে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন যে, অনেক রাজ্যেই কংগ্রেসকে 'ছোট শরিক' বা জুনিয়র পার্টনার হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ফেরাতে হলে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব এবং আদর্শের জায়গা থেকে গভীর আত্মসমীক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে বিজেপি নেতা বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায় এবং নির্বাচনী জনাদেশকে সম্মান না জানিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে ফেলছে।

জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কংগ্রেস দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন চৌহান। তিনি বলেন, যখন আমাদের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তখন কংগ্রেস উল্টে সেই সেনার কর্মকাণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

এছাড়া, শিবরাজ সিং চৌহান কংগ্রেস এবং 'ইন্ডি' জোটের বিরুদ্ধে দেশকে দুর্বল করতে পারে এমন শক্তির পাশে দাঁড়ানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। জর্জ সোরোস এবং ইলন মাস্কের নাম উল্লেখ করে তিনি বিরোধী নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির প্রভাব সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগগুলোতে কংগ্রেসের প্রকৃত অবস্থান কী, তা তাদের স্পষ্টভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা উচিত।

রাহুল গান্ধীর সেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও তোপ দাগেন চৌহান, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, বরং 'ইন্ডিয়ান স্টেট'-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বিজেপি নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে এই মন্তব্যের জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থাহীনতাকেই প্রকাশ করে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইস্যু নিয়েও কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন চৌহান। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলটি বরাবরই ভগবান রামের বিরোধিতাকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অথচ রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণে ভগবান শিবের বরযাত্রীকে নিজের বরযাত্রী বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন যে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই কংগ্রেস নিয়মিতভাবে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর নিজেদের নীতি ও নেতৃত্ব নিয়ে পর্যালোচনা না করে তারা প্রতিবারই নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় এড়াতে চায়।

চৌহান বলেন যে, কংগ্রেসকে অবশ্যই এই সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে গণতন্ত্রে নির্বাচনী সাফল্য সম্পূর্ণরূপে জনগণের আস্থার ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে দলটিকে তাদের আদর্শ, নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক ভিত শক্ত করার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / Sachin Budhauliya




 

 rajesh pande