
দুর্গাপুর, ১৮ অক্টোবর (হি.স.) :
উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করল প্রশাসন। উৎসবের মরশুমে যাতে আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে পুলিশি ও প্রশাসনিক নজরদারি। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও।
উল্লেখ্য, চোরবাগান মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পরই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে দুর্গাপুরের বড় ও জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ পরিকাঠামো পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় সামলানো, প্রবেশ ও প্রস্থানের নির্দিষ্ট ও পৃথক পথ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকার্য পরিচালনা বা ব্যাক-আপ টিম নামানোর পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
রবিবার দুর্গাপুরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও বিগ-বাজেট পুজো হিসেবে পরিচিত শঙ্করপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবং ফুলঝোর সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শন করেন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সন্ধ্যা নামতেই এই দুই পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যান দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিউ টাউনশিপ থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক দলটি পুজো মণ্ডপের প্রবেশপথ, বেরনোর রাস্তা, জরুরি আপৎকালীন পথ এবং মণ্ডপ চত্বরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রয়েছে কি না—তা প্রতিটি কোণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। দর্শনার্থীদের কীভাবে সুশৃঙ্খল লাইনে মণ্ডপে প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং আচমকা ভিড়ের চাপ অতিরিক্ত বাড়লে তা সামাল দেওয়ার জন্য পুজো কমিটির ভলান্টিয়ার ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয় কেমন রয়েছে, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিশদ কথা বলেন মহকুমা শাসক।
পরিদর্শন শেষে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল বলেন, আমরা চারদিকের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। দর্শনার্থীদের পুজো দেখা কিংবা যাতায়াতে যাতে কোনো রকম সমস্যা বা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে না হয়, সেই লক্ষ্যে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশ ও প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা