
আসানসোল (পশ্চিম বর্ধমান), ১৮ অক্টোবর (হি.স.): পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়ার শিল্পাঞ্চলে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শনিবার রাতে জামুড়িয়ার ইকরা শিল্পতালুকে অবস্থিত শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে একটি নির্মীয়মান চিমনির একাংশ হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে চারজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
কারখানার তৃতীয় গেটের কাছে বিশালাকার চিমনির নির্মাণকাজ চলছিল। সেই সময় চিমনির নিচে শ্রমিকরা কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে নির্মীয়মান কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান কর্মরত শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে কারখানা চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে শ্রমিকদের আটকে থাকার খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী, দমকল ও কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী দল। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচে আটকে থাকা চারজন শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই কারখানা চত্বরে স্থানীয়দের ভিড় উপচে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। তিনি উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং আহত শ্রমিকের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ কমিশনার-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কারখানা চত্বরে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কর্মীদের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। উৎসবের আবহে কারখানা চত্বরে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় নির্মাণকাজে শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ হচ্ছিল কি না এবং পরিকাঠামোর গুণগত মান খতিয়ে দেখা হতো কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। মৃত শ্রমিকদের বিস্তারিত পরিচয় ও সরকারি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
--------
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ