
নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর (হি.স.): তিরঙ্গা মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার দায়ের করা মামলায় রায় স্থগিত রাখল দিল্লি হাই কোর্ট। বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য শোনার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২৩ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
শুনানিতে নেহা বোরার পক্ষে প্রশ্ন করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য নাগরিকদের কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই। পুলিশের জারি করা নোটিসের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৩০ ধারার আওতায় জারি করা নোটিসের বৈধতা নিয়েই এই মামলা। নেহা বোরার আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিলেও কখনও হিংসায় উস্কানি দেননি। তাঁর নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে হওয়া বিক্ষোভগুলি শান্তিপূর্ণ ছিল বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
অন্য দিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা নেহা বোরার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ১২৬ ও ১৩০ ধারা একসঙ্গে প্রয়োগ করা যেতে পারে। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে পুলিশ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টিকে শুধুমাত্র আইনের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলেও আদালতে সওয়াল করেন তিনি।
নেহা বোরার আবেদনে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা জমা দেওয়া এবং শান্তি বজায় রাখার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ গত ১৮ অক্টোবর তাঁকে নোটিস দিয়ে ১৯ অক্টোবর বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। নোটিসে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তের সময় শান্তি বজায় রাখার জন্য ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ধারায় এক জন জামিনদার-সহ ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা দিতে হবে।
গত ১৬ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নেহা বোরাকে সতর্কতামূলকভাবে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। পরদিন, ১৭ অক্টোবর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এই মামলার সূত্রে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের গ্রেফতারির বিষয়টিও সামনে এসেছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৫০ হাজার টাকার শান্তি বন্ডে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই বন্ড অনুযায়ী, এক বছর তাঁকে শান্তি বজায় রাখতে হবে। সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও ২১ অক্টোবর মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আগামী ২৩ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য