(আপডেট) নেশামুক্ত উত্তরাখণ্ড গড়ার ডাক ধামির, চারধাম যাত্রায় ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থীর নতুন নজির
দেহরাদূন, ২৩ অক্টোবর (হি.স.): যুবসমাজকে মাদকাসক্তির কবল থেকে রক্ষা করা এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তরাখণ্ড সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। শুক্রবার দেহরাদূনে ‘ড্রাগ-ফ্রি উত্ত
নেশামুক্ত উত্তরাখণ্ড গড়ার ডাক ধামির, দেহরাদূনে ‘ড্রাগ-ফ্রি উত্তরাখণ্ড’ পদযাত্রার সূচনা


দেহরাদূন, ২৩ অক্টোবর (হি.স.): যুবসমাজকে মাদকাসক্তির কবল থেকে রক্ষা করা এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তরাখণ্ড সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। শুক্রবার দেহরাদূনে ‘ড্রাগ-ফ্রি উত্তরাখণ্ড’ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুবসমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

দেহরাদূনের ওএনজিসির ড. বি আর আম্বেদকর ময়দানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরাখণ্ডকে নেশামুক্ত রাজ্যে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে। এদিন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেশামুক্ত উত্তরাখণ্ডের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পদযাত্রা ও দৌড়ের আয়োজন করে। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ধামি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মাদকাসক্তির সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো এবং মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ‘মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন’ এই বার্তাকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চারধাম যাত্রায় ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থী

এদিন চারধাম যাত্রা নিয়েও পুষ্কর সিং ধামি দাবি করেন, এ বছর চারধাম যাত্রায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বর্ষার আগে যাত্রার প্রথম পর্যায় হোক কিংবা বর্ষার পরের পর্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত উত্তরাখণ্ডে এসেছেন। এখনও যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থী চারধাম যাত্রা করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ধামির জানান, এই বিপুল অংশগ্রহণ চারধাম যাত্রার ক্ষেত্রে নতুন নজির তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আগামী কুম্ভমেলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পুণ্যার্থীদের যাত্রা আরও সুষ্ঠু ও সুবিধাজনক করে তুলতে বিভিন্ন ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ চলছে। তবে চারধাম যাত্রার ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও পথের কঠিনতার কারণে তীর্থযাত্রা এখনও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কেদারনাথ ও বদ্রীনাথের উন্নয়নে জোর

কেদারনাথ ধামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের পর তীর্থযাত্রায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেন ধামি। তাঁর বক্তব্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কেদারনাথে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর থেকে সেই সংখ্যা ফের উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বদ্রীনাথ ধামের উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগোচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। চারধাম যাত্রায় পুণ্যার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, যাত্রাপথের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং তীর্থস্থানগুলির পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।

একদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার উদ্যোগ, অন্যদিকে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রার পরিকাঠামো উন্নয়ন—এই দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুষ্কর সিং ধামি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande