
আগরতলা (ত্রিপুরা), ২৪ অক্টোবর (হি.স.) : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রাক্কালে শব্দদূষণ রুখতে রাজধানী আগরতলায় সক্রিয় হয়ে উঠল সদর মহকুমা প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় শব্দবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ কেজি শব্দবাজি উদ্ধার করল প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত যৌথ অভিযানকারী দল। শনিবার এমবি টিলা, এডি নগর, মহারাজগঞ্জ বাজার-সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া শব্দবাজিগুলি নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সদর মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমা শাসক দীপরাজ রায়।
রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাঙালির ঘরে ঘরে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। পুজোর বাজারে কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঘর সাজানো—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। তবে উৎসবের আনন্দের আড়ালে যাতে শব্দদূষণ ও পরিবেশদূষণের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।
বিশেষ করে শব্দবাজির তীব্র আওয়াজ শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দের কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই শব্দবাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার সদর মহকুমা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত যৌথ দল রাজধানীর একাধিক বাজার ও এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমা শাসক দীপরাজ রায়, খাদ্য দপ্তরের ইন্সপেক্টর, ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিক-সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০ কেজি শব্দবাজি উদ্ধার করা হয়। উৎসবের মরশুমে শব্দবাজির অবৈধ বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত মহকুমা শাসক দীপরাজ রায় জানান, শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধি অনুসারে উদ্ধার হওয়া শব্দবাজিগুলি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
উল্লেখ্য, উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কাছে দুর্ভোগের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেই বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শব্দবাজির বিকট আওয়াজে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে তেমনই সমস্যায় পড়েন অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ছোট শিশুরা। তাই উৎসব পালনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
এখন দেখার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এই অভিযান রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে শব্দবাজির দাপট কতটা কমানো সম্ভব হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ