
বিশ্রামগঞ্জ (ত্রিপুরা), ২৪ অক্টোবর (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ থানাধীন বড়জলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধের পাড় এলাকায় জনৈক গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীকে মারধর, নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি, চুরি এবং বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দুই বছরের শিশুসন্তানকে ঘর থেকে উঠোনে ছুড়ে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, জান্নাত বেগম, তাঁর বাবা আবুল কাসেম মিয়া এবং রৌশনা বেগমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা ধরনের অশান্তি ও বিবাদের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, জান্নাত বেগম প্রায়ই তাঁর স্বামী নজরুল ইসলামকে জুতো ও শলাঝাড়ু দিয়ে মারধর করেন। পাশাপাশি, এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি এবং বিভিন্ন বাড়ি থেকে রাবারের শিট চুরি করে নিয়ে আসার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
গ্রামবাসীদের দাবি, সম্প্রতি জান্নাত বেগম তাঁর দুই বছরের শিশুসন্তানকে ঘর থেকে উঠোনে ছুড়ে ফেলে রেখে বাপের বাড়িতে চলে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গতকালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, জান্নাত বেগম জিরানিয়া খোলা এলাকা থেকে তিনটি গাড়িতে করে লোকজন নিয়ে এসে তাঁর স্বামী নজরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এই সময় বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, বাড়ি থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া নজরুল ইসলামের মা এবং তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে ফেলে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়জলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধের পাড় এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে গ্রামবাসীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরে পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, এই ঘটনায় বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না কিংবা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে, বড়জলার বাঁধের পাড় এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ