(রাউন্ড আপ ) 'মন কি বাত’-এ নরিন্দর সিং কপানি ও ভাই পরমানন্দকে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর, যুবসমাজকে তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর (হি.স.): মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে রবিবার ফাইবার অপটিক্সের জনক নরিন্দর সিং কপানি এবং গদর পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভাই পরমানন্দকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৩১ অক্টোবর কপানির এবং ৪ নভ
‘মন কি বাত’-এ নরিন্দর সিং কপানি ও ভাই পরমানন্দকে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর


নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর (হি.স.): মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে রবিবার ফাইবার অপটিক্সের জনক নরিন্দর সিং কপানি এবং গদর পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভাই পরমানন্দকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৩১ অক্টোবর কপানির এবং ৪ নভেম্বর ভাই পরমানন্দের জন্মজয়ন্তী। দেশের এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরে যুবসমাজকে তাঁদের সম্পর্কে পড়াশোনা করার এবং তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ৩১ অক্টোবর ‘রান ফর ইউনিটি’-তে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান তিনি। আসন্ন উৎসবগুলির জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এদিন মহর্ষি বাল্মীকির প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদী। তিনি বলেন, মহর্ষি বাল্মীকির রচিত রামায়ণ তার চিরন্তন জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। রামায়ণ আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি সেবা, করুণা এবং সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বও বুঝতে শেখায়।

প্রধানমন্ত্রীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১২ বছর আগে বিজয়াদশমীর দিন রেডিওকে দেশবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই দীর্ঘ সময়ের কথোপকথনের যাত্রাকে মানুষের প্রচেষ্টা ও অবদানকে জানার এক তীর্থযাত্রা বলে অভিহিত করেন তিনি। রবিবার ১৩৯তম পর্বে মোদী বলেন, “আমার কাছে ‘মন কি বাত’ কোনও তীর্থযাত্রার চেয়ে কম নয়। এটি মানুষের প্রচেষ্টাকে গভীরভাবে বোঝার এবং তাঁদের অবদানকে কুর্নিশ জানানোর যাত্রা।”

নরিন্দর সিং কপানির অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনে তাঁর অগ্রণী কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। গোটা বিশ্ব তাঁকে ‘ফাদার অফ ফাইবার অপটিক্স’ হিসেবে জানে। পঞ্জাবের মোগা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কপানি। তাঁর গবেষণা যোগাযোগের জগৎকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। আজকের ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা তাঁর গবেষণা ও ভাবনা ছাড়া কল্পনা করা সম্ভব ছিল না। আগামী ৩১ অক্টোবর তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এই বিজ্ঞানীর অবদান স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বিপ্লবী ভাই পরমানন্দের জীবন ও দেশসেবার কথাও তুলে ধরেন মোদী। আগামী ৪ নভেম্বর তাঁর জন্মজয়ন্তী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহস, আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রসেবার এক অনন্য উদাহরণ ভাই পরমানন্দের জীবন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান সর্বদা স্মরণ করা হবে। আর্য সমাজের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল এবং সেই সংযোগ থেকেই তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও গায়ানাতেও তিনি আর্য সমাজের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর সাক্ষাৎ হয়েছিল। ভাই পরমানন্দ গদর পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম ছিলেন। লালা হরদয়ালকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্যও তিনি উৎসাহিত করেছিলেন।

‘মন কি বাত’-এর প্রতিটি পর্বের মতো এদিনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা কয়েকটি অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যে ছিল পঞ্জাবে প্রথাগত কৃষিপদ্ধতিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ। মোদী জানান, পঞ্জাবে ‘খেতি বিরাসত মিশন’ নামে একটি সংস্থা মালওয়া অঞ্চলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তুলো চাষের প্রসারে কাজ করছে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নব-ত্রিঞ্জন’। প্রথাগত কৃষিপদ্ধতিকে নতুন করে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে তুলো উৎপাদনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে বাজরার প্রথাগত চাষ আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের সামনে নতুন কর্মসংস্থান ও আর্থিক সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া হিলস জেলার খাণ্ডুলি গ্রামে বহু প্রজন্ম ধরে বাজরা স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই শস্যের চাষে কৃষকদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে গ্রামের দুই তরুণী বন্ধু বাজরাকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ শুরু করেন। তাঁরা বাজরা দিয়ে কুকিজ, কেক, মাফিন এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করতে শুরু করেন। এর ফলে বাজরার তৈরি পণ্যের বিক্রি বাড়তে থাকে এবং বাজারে সেগুলির চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, কীভাবে স্থানীয় উদ্যোগ ও নতুন ভাবনা প্রথাগত কৃষিপণ্যকে আবার জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।

উত্তরাখণ্ডের হেভাল নদীকে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথাও জানান মোদী। তিনি বলেন, তেহরি গাঢ়ওয়ালের বাসিন্দারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে নদীকে বাঁচানোর কাজে নেমেছিলেন। বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। মাটির গভীরে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ব্যাপক সংখ্যায় গাছ লাগানো হয়। স্থানীয় মানুষের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে হেভাল নদী নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের কয়েক ডজন প্রাকৃতিক জলস্রোতকেও পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করেছে এই উদ্যোগ।

বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মানব মস্তিষ্ককে আরও ভালোভাবে বোঝার লক্ষ্যে গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আইআইটি মাদ্রাজ। সেখানে ‘সুধা গোপালকৃষ্ণন ব্রেন সেন্টার’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কেন্দ্র মানব মস্তিষ্কের উচ্চ রেজোলিউশনের ডিজিটাল ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করার একটি বিশেষ মঞ্চ গড়ে তুলেছে। মোট ১০০টি মানব মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে সেগুলির বিস্তারিত অধ্যয়ন করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। মানব মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা তৈরি করতে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ই-সঞ্জীবনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মোদী। এই পরিষেবার মাধ্যমে কীভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে, তার দুটি উদাহরণ দেন তিনি। প্রথম ঘটনাটি আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বারাটাং দ্বীপের। সেখানে জারোয়া জনজাতির সাত বছর বয়সি শিশু ওহো-তাহানের প্রবল জ্বর হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ই-সঞ্জীবনীর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিকিৎসায় শিশুটির নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নজরদারিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়।

দ্বিতীয় ঘটনাটি লাক্ষাদ্বীপের কালপেনি এলাকার। সেখানে প্রায় ৬০ বছর বয়সি কুনহি কোয়ার হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এই পরিস্থিতিতে ই-সঞ্জীবনীর মাধ্যমে কাভারত্তিতে থাকা এক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ওই চিকিৎসক স্থানীয় চিকিৎসক দলকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালানোর ফলে কুনহি কোয়া স্বস্তি পান। এই দুই ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের মানুষের কাছেও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে দেশবাসীকে স্থানীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশীয় পণ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই অভিযানকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বিহারের মাখানা এবং কর্ণাটকের অড়হর ডাল ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন নতুন ক্রেতা ও বাজার খুঁজে নিচ্ছে। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী পণ্যগুলিও বিশেষ ধরনের প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলির সঙ্গে আদিবাসী শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে খাদির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে ঐতিহ্যবাহী কারিগররা উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয় উৎপাদক, কৃষক ও কারিগরদের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীকে দেশীয় পণ্য কেনার উপর গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানান মোদী।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande