
তিরুপতি (অন্ধ্রপ্রদেশ), ২৯ অক্টোবর (হি.স.): দেশের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্ণয় বা নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এই লক্ষ্যে ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র জিএসএলভি-এফ১৮ উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমে মহাকাশে পাড়ি দেবে অত্যাধুনিক নেভিগেশন স্যাটেলাইট 'এনভিএস-০৩'।
গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালার ঐতিহ্যবাহী শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে গিয়ে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনা নিবেদন করেন ইসরো চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন। প্রতিবারের মতো এবারও অভিযানের ক্ষুদ্র প্রতিরূপ (মডেল) শ্রী ভেঙ্কটেশ্বরের চরণে স্পর্শ করিয়ে মিশনের সর্বাঙ্গীন সাফল্যের আশীর্বাদ চান ইসরো প্রধান।
মন্দির দর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইসরো চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে আমরা জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের সাহায্যে নেভিগেশন স্যাটেলাইট 'এনভিএস-০৩' উৎক্ষেপণ করতে চলেছি। একটি বেসরকারি উৎক্ষেপণ সহ এটি চলতি বছরে আমাদের পঞ্চম সফল অভিযান হতে চলেছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে কক্ষপথে আমাদের সক্রিয় নেভিগেশন স্যাটেলাইটের সংখ্যা দাঁড়াবে চারটিতে। যার মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রুব আইডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি। এই উপগ্রহগুলি ভারতকে অত্যন্ত নিখুঁত অবস্থান, পথনির্দেশ এবং সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত, নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা প্রদান করবে।
এই অভিযানের কৌশলগত ও নাগরিক উপযোগিতার দিকটি তুলে ধরে ইসরো প্রধান উল্লেখ করেন, নতুন এই উপগ্রহ দেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে যেমন নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, তেমনই অসামরিক ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রেলওয়ের রিয়েল-টাইম ট্রেন ট্র্যাকিং, সড়কপথে দ্রুত যানবাহন নজরদারি এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিখুঁত নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে এই উপগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ