মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশের পরেই বিধায়ক হামিদুলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে পাল্টা জবাব দিলেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের রাজনৈতিক আক্
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) :

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে পাল্টা জবাব দিলেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ এবং চ্যালেঞ্জকে প্রকাশ্যে স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ঝুলে নেই এবং পুলিশ প্রশাসন চাইলে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর বিধায়ক হামিদুল রহমান সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এর পরেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে আয়োজিত এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক হামিদুলকে একহাত নেন এবং তাঁকে ‘কুখ্যাত গুন্ডা ও মাফিয়া’ বলে তোপ দাগেন। শুধু তাই নয়, হামিদুলের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত পুরনো মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুরের এসপি, ডিআইজি এবং আইজি-কে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর শুক্রবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামিদুল রহমান বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনিভাবে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। আকবর আলি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সেই মামলা অনেক আগেই আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলেও আদালত তাঁকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করে অব্যাহতি দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি অতীতে জেল খেটেছেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁর নামে কোনো মামলা ঝুলন্ত অবস্থায় নেই।

মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে হামিদুল জানান, সরকারের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে, তাই যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পুরনো ফাইল বা নথি থেকে থাকে, তবে প্রশাসন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখতে পারে। আইন সবার ওপরে এবং তদন্তে যদি কোনো সত্যতা মেলে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে এই ধরনের হুমকিতে তিনি ভয় পান না এবং যেকোনো আইনি লড়াইয়ের মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চোপড়া, গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়া এলাকার বিভিন্ন সরকারি জমি, চা বাগান এবং আদিবাসীদের জমি অবৈধভাবে জবরদখল করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। অবিলম্বে ওই সমস্ত জমি বেআইনি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সমস্ত ভূমি জবরদখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হামিদুল রহমান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন যে, যদি কেউ চা বাগান বা সাধারণ মানুষের জমি অবৈধভাবে দখল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, চোপড়া এলাকায় তাঁর পরিচিতির পরিধিভুক্ত প্রায় ২০০-র বেশি চা বাগান রয়েছে, অথচ কোনো একজন বাগান মালিকও তাঁর বিরুদ্ধে থানা বা আদালতে কোনোদিন কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। উলটো দিক থেকে শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালনার সুবাদে বাগানগুলি শান্তিপূর্ণভাবে চলেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত খোদ বাগান মালিকদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখা যে গত ছয় মাসে তাঁদের কাজের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো রয়েছে কি না।

পরিশেষে হামিদুলের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন কড়া মন্তব্য করেছেন। তবে সত্য লুকানোর কোনো প্রশ্নই নেই এবং যেকোনো ধরনের আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande