চন্দ্রপুরে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : গোমতী জেলার চন্দ্রপুরে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। শুক্রবার বিকেলে উদয়পুরের মাতারবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চন্দ্রপুর এলাকায় মাইলস্টোন ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে
কলেজের উদ্বোধন


উদয়পুর (ত্রিপুরা), ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : গোমতী জেলার চন্দ্রপুরে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। শুক্রবার বিকেলে উদয়পুরের মাতারবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চন্দ্রপুর এলাকায় মাইলস্টোন ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স বা ঔষধবিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও একটি সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, মাতাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, চন্দ্রপুরের মতো এলাকায় এই ধরনের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে এলাকার পরিকাঠামোগত ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় সাফল্য। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যাতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পায় এবং উচ্চশিক্ষায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মমুখী ও পেশাদার শিক্ষার সুযোগও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর পাশাপাশি সেটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের দায়িত্বও যে সকলের, সে বিষয়েও এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রতিষ্ঠানটি যাতে কোনও অবস্থাতেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে এলাকাবাসীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা করা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

বক্তব্যে শিক্ষার আঙিনা থেকে ছাত্রছাত্রীদের ছিটকে পড়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যখন কোনও ছেলে বা মেয়ে নানা কারণে শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, তখন তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। তাই নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে হবে। নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চন্দ্রপুর এলাকায় শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা অনুরাগীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষজনের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande