
ডিসা/আহমেদাবাদ, ৩০ অক্টোবর (হি.স.): দু’দিনের গুজরাট সফরের প্রথম দিনে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বানাসকাঁঠা জেলার ভিলডিতে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২৪তম কিস্তি বাবদ দেশের কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা হস্তান্তর করেন তিনি। পাশাপাশি ১২৭ একর জমিতে গড়ে ওঠা ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (বিবিবিআরসি) জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিন তাঁর কর্মসূচিতে ছিল রোড শো এবং পশুপালক মহিলাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও।
সকালে ডিসা বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি ভিলডির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁকে স্বাগত জানাতে এলাকায় বহু মানুষের সমাগম হয়। রোড শো চলাকালীন স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান উপস্থিত জনতা। পরে পশুপালক মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন।
১২৭ একর জমিতে আধুনিক পশু গবেষণা কেন্দ্র
বানাসকাঁঠার ভিলডিতে ১২৭ একর জমিতে গড়ে তোলা ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (বিবিবিআরসি) জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই আধুনিক কেন্দ্রে গরু ও মহিষের জাত উন্নয়ন, জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিকাশ এবং আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হবে। পশুর জাত উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত দ্রুত করাই এই কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষভাবে কাঁকরেজ প্রজাতির গরুর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে।
কেন্দ্রে স্থাপিত আধুনিক ইটি-আইভিএফ পরীক্ষাগারও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বানাসকাঁঠা সৈনিক স্কুলের পড়ুয়া, পশুপালক মহিলা এবং স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দুটি বায়ো-সিএনজি প্রকল্পের শিলান্যাস
পশুপালন থেকে উৎপন্ন বর্জ্যকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বানাস ডেয়ারির উদ্যোগে থারাদ ও রাধনপুরে দুটি বায়ো-সিএনজি কারখানা গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার এই দুই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত কারখানা দুটিতে প্রতিদিন যথাক্রমে ৭৫ ও ১০০ মেট্রিক টন পশুর গোবর প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে গোবর থেকে জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একদিকে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে পশুপালকেরা গোবরের আর্থিক মূল্যও পেতে পারবেন।
আলু চাষিদের জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা
আলু উৎপাদক কৃষকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আলু প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার প্রসারেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রত্যয়িত বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে আলু প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম এবং ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রক্রিয়াকরণের সময় যে বর্জ্য তৈরি হবে, তা দিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। অবশিষ্ট অংশ জৈব সার হিসেবে কৃষকদের দেওয়া হবে। আলু প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রসার, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজিত আলুজাত পণ্যের রফতানিকে উৎসাহিত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।
১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস
প্রধানমন্ত্রীর গুজরাট সফরে রাজ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া দুটি নতুন যাত্রিবাহী ট্রেনের যাত্রার সূচনাও করেন তিনি। কৃষকদের জন্য আয়োজিত বিশাল খাটলা সভার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এত বড় খাটলা সভা আগে কখনও হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। এই আয়োজন গিনেস রেকর্ডের সমতুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন, ৩১ অক্টোবর, রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য