এক সূর্যের অস্ত, প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা আর. কে. সিনহা
— ড. ময়ঙ্ক চতুর্বেদী নয়াদিল্লি, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর ভারত হারাল এক বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী, রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে। ড. রবীন্দ্র কিশোর সিনহা (আর. কে. সিনহা) ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থা
भारतीय जनता पार्टी के पूर्व सांसद आरके सिन्हा (फाइल फोटो)


— ড. ময়ঙ্ক চতুর্বেদী

নয়াদিল্লি, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর ভারত হারাল এক বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী, রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে। ড. রবীন্দ্র কিশোর সিনহা (আর. কে. সিনহা) ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লি-নয়ডা অঞ্চলে নিজের বাসভবনে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর প্রয়াণে বিহার তথা দেশের রাজনৈতিক, শিল্প ও সংবাদমাধ্যমের জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

বিহারের প্রবীণ বিজেপি নেতা, প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস (এসআইএস)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি জাতীয় স্তরে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনের বিশেষত্ব ছিল সাংবাদিকতা, রাজনীতি, শিল্পোদ্যোগ ও সমাজসেবাকে একই সূত্রে গাঁথা। বিশেষত, বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থার সঙ্গে আজও যুক্ত রয়েছেন লক্ষাধিক কর্মী ও তাঁদের পরিবার।

সাংবাদিকতা থেকে নেতৃত্ব : হিন্দুস্থান সমাচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আর. কে. সিনহার কর্মজীবনের সূচনা হয়েছিল সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে। সত্তরের দশকে একজন সংবাদ সংগ্রাহক বা সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করে তিনি পরবর্তী সময়ে দেশের প্রাচীনতম বহুভাষিক সংবাদ সংস্থা ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতাকে তিনি কেবল পেশা হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক বাস্তবতা এবং জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যথাযথভাবে তুলে ধরা। হিন্দুস্থান সমাচারের নেতৃত্বে থাকাকালীন সংস্থাটির সাংগঠনিক বিকাশ এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের পরিসরে তার ভূমিকা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সাংবাদিকতার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সমস্যা, বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর শিল্পোদ্যোগের অন্যতম মজবুত ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিহারের এক সাধারণ পরিবার থেকে জাতীয় পরিচিতি

১৯৫১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিহারের বক্সার জেলার বহিয়ারা গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্র কিশোর সিনহা। পাটনার অনুগ্রহ নারায়ণ কলেজ থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর কর্মজীবনের শুরুটা ছিল যথেষ্ট প্রতিকূলতার মধ্যে। প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিক হিসেবে মাসিক মাত্র ২৩০ টাকা বেতনে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি।

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় খুলনা-কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী সেক্টরে যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে তাঁর কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযান এবং সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে সেনাকর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের বিষয়টি তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে চলে আসে। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে, দেশের জন্য দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পর বহু সেনাকর্মী অবসরের পর উপযুক্ত জীবিকার সুযোগ পান না। তাঁদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জয়প্রকাশ নারায়ণের পরামর্শ এবং এসআইএস প্রতিষ্ঠার ভাবনা

সত্তরের দশকে বিহারে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন ও সম্পূর্ণ বিপ্লবের আন্দোলন ক্রমশ বিস্তার লাভ করে। আর. কে. সিনহা সক্রিয়ভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। জেপি আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে একসময় তাঁকে সাংবাদিকতার চাকরিও ছাড়তে হয়।

এই সময় লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ তাঁকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

জেপির এই দূরদর্শী পরামর্শ আর. কে. সিনহার পরবর্তী কর্মজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরে। তিনি এই বিষয়টিকে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় একটি সংগঠিত বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা।

২৫০ টাকার উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপান্তর

১৯৭৪ সালে পাটনায় মাত্র ২৫০ টাকা মূলধন এবং দু'জন কর্মী নিয়ে আর. কে. সিনহা প্রতিষ্ঠা করেন ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস’ বা এসআইএস (SIS)। পাটলিপুত্র কলোনিতে তাঁর নিজের বাড়ির দুটি ঘরেই দীর্ঘদিন সংস্থার কাজকর্ম পরিচালিত হতো। সীমিত পরিকাঠামো ও আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পরবর্তী কয়েক দশকে একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

সেই সময় ভারতে বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা শিল্প সেভাবে সুসংগঠিত ছিল না। এই ক্ষেত্রটিকে পেশাদার প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার পথিকৃৎ উদ্যোগ নেন তিনি। ১৯৮৪ সালে নিরাপত্তারক্ষীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য তিনি একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন।

এসআইএস-এর বিকাশের ইতিহাসে ২০০৮ সাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওই বছর সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য নিরাপত্তা পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘চাব সিকিউরিটি’ অধিগ্রহণ করে। এই অধিগ্রহণের ফলে এসআইএস আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বহুজাতিক সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

বর্তমানে ভারত, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এই সংস্থার কার্যক্রম বিস্তৃত। সংস্থার বার্ষিক লেনদেন ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা ক্ষেত্রে এসআইএস আজ একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিই ছিল তাঁর উদ্যোগের অন্যতম প্রধান সাফল্য

আর. কে. সিনহার শিল্পোদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি ছিল ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিশেষ করে বিহারের মতো একটি রাজ্যে, যেখানে কর্মসংস্থানের অভাবে বহু মানুষকে পরিযায়ী হতে হয়, সেখানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা লক্ষাধিক যুবকের জীবিকার সুনিশ্চিত সুযোগ তৈরি করেছে।

এসআইএস গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এই কর্মসংস্থানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল সংখ্যক পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জড়িত রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর যে প্রাথমিক ভাবনা থেকে সংস্থাটির সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে এক বিশাল কর্মসংস্থানমূলক মহাযজ্ঞে পরিণত হয়। নিরাপত্তা পরিষেবার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বিহার তথা দেশের যুবসমাজের জন্য তাঁর এই অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো। শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

বিজেপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে ভূমিকা

শিল্পোদ্যোগের পাশাপাশি আর. কে. সিনহার রাজনৈতিক জীবনও ছিল দীর্ঘ, বর্ণময় ও সক্রিয়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জনসংঘের সময় থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় তাঁকে জনসংঘের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বিহারে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় তিনি জেপি আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থেকে তৎকালীন শাসকদলের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এই রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ‘জনআন্দোলন’ নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেন।

২০১৪ সালে বিজেপি তাঁকে দেশের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাঠায়। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং দেশের যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ওপর সর্বদা জোরালো সওয়াল করেছিলেন।

এছাড়াও, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক কুশলতা তাঁকে দলের অন্যতম প্রবীণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত করেছিল।

শিক্ষা, সমাজসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান

আর. কে. সিনহার কর্মক্ষেত্র কেবল ব্যবসা বা রাজনীতির গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবার প্রসার ঘটাতে তিনি বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

২০০১ সালে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বনামধন্য আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দ্য ইন্ডিয়ান পাবলিক স্কুল’। পাশাপাশি, ‘অবসর ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি জৈব কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের কাজেও উৎসাহ দেন। এই উদ্দেশ্যে ‘আদ্যা অর্গানিক্স’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিষমুক্ত জৈব কৃষির প্রসার ঘটানো এবং কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা।

শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় তাঁর সুদীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করে ভূষিত করে।

তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট দর্শন কাজ করেছিল—সমাজের পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।

এক কর্মময় জীবনের উত্তরাধিকার

ড. রবীন্দ্র কিশোর সিনহার আকস্মিক প্রয়াণে বিহার তথা সমগ্র দেশের শিল্প, রাজনীতি ও সাংবাদিকতার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। তাঁর জীবনপ্রবাহের দিকে তাকালে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে শূন্য থেকে শুরু করে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি একটি আন্তর্জাতিক শিল্পসাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র উচ্চতা তৈরি করেছিলেন।

তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল দেশের বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা খাতকে একটি সুসংগঠিত ও সম্মানজনক শিল্পের রূপ দেওয়া এবং লক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের পুনর্বাসনের যে মহৎ ভাবনা থেকে এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ একটি মহীরূহে পরিণত হয়েছে।

একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক, একজন দূরদর্শী শিল্পপতি, একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ এবং এক পরোপকারী সমাজকর্মী—সব মিলিয়ে ড. আর. কে. সিনহার জীবন ছিল এক বহুমুখী প্রতিভার অনন্য প্রতিফলন।

মানুষের হৃদয়ে ও কর্মে তাঁর রেখে যাওয়া প্রভাব চিরকাল অম্লান থাকবে। এসআইএস পরিবারের লক্ষাধিক কর্মী, তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকতা জগতের গুণমুগ্ধরা তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।

ড. রবীন্দ্র কিশোর সিনহার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন এবং তাঁর সমস্ত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের আদর্শ আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুম ড. রবীন্দ্র কিশোর সিনহার পবিত্র আত্মার চিরশান্তি কামনা করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। তাঁর অসামান্য অবদান দেশবাসী চিরদিন মনে রাখবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande