বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর অসম্পূর্ণ ছিল, ফের ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি শমীকের
কলকাতা, ৩১ অক্টোবর(হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ ছিল বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি ট্রেড ইউনিয়নের উদ্বোধনী
शमिक


কলকাতা, ৩১ অক্টোবর(হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ ছিল বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি ট্রেড ইউনিয়নের উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাজ্যে নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে সংশোধন প্রক্রিয়া হয়েছিল, তাতে বহু ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

শমীক বলেন, বিজেপির পক্ষ থেকে তিনি জানাতে চান, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ভোটার তালিকা নতুন করে সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর অভিযোগ, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও), অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানো না হলে ভোটার তালিকা থেকে আরও অনেক ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া সম্ভব হত।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বলে উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ২০ লক্ষেরও বেশি ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চিহ্নিত হয়েছে। তাঁর মতে, এই তথ্যই প্রমাণ করে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল।

অন্য রাজ্যের উদাহরণ দিয়ে শমীক বলেন, বিহারে বিধানসভা নির্বাচন এসআইআর প্রক্রিয়ার পরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, হরিয়ানা ও দিল্লিতে নির্বাচনের আগে এ ধরনের কোনও সংশোধন প্রক্রিয়া হয়নি। ওই দুই রাজ্যেই বিজেপি জয়ী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর জন্য বিরোধীদের দাবিরও সমালোচনা করেন শমীক। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সম্মান জানানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ৭০ বছরে রাজ্য এমন রক্তপাতহীন ও হিংসামুক্ত নির্বাচন দেখেনি। উৎসবের পরিবেশে মানুষ যাতে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে অন্তত পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কংগ্রেসকে ‘পরজীবী রাজনৈতিক দল’ বলে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই পটেল এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বিশিষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে একসময় কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে দলটিকে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করতে হচ্ছে। কংগ্রেস এখন বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন শমীক। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তৃণমূলের অস্তিত্ব কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। দলটি বর্তমানে তিনটি পৃথক ধারায় বিভক্ত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই তিনটি অংশ হল ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘এনসিপিআই’।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে শমীক বলেন, ২০১৪ সালে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলির তালিকায় থাকা ভারত আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ না করেই তিনি কটাক্ষ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande