— পরিবেশবান্ধব শক্তির বিকল্পসমূহকে উৎসাহিত করতে গেইলের উপভোক্তা সচেতনতা অভিযান
নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর (হি.স.): দেশের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস সংস্থা গেইল (ইন্ডিয়া) লিমিটেড বুধবার তাদের উপভোক্তা সচেতনতা অভিযান 'ওয়াহ ক্যায় এনার্জি হ্যায়'-এর সিজন ২ চালু করেছে। সংস্থার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে চারটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই অভিযানের অ্যান্থেম 'নয়ে ভারত কি নয়ি এনার্জি'-ও রিলিজ করা হয়েছে।
সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করতে এবং পরিচ্ছন্ন ও অধিক টেকসই শক্তির বিকল্পগুলির প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গেইলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। গেইল জানিয়েছে, সিএনজি, পিএনজি এবং এলএনজি-র মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্পগুলি গ্রহণের স্পষ্ট আহ্বানের মাধ্যমে এই অভিযানটি সারাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির উপভোক্তাদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। গেইলের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে 'জেন জি-র ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ কেনাকাটা ও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রজন্মের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে পরিবেশবান্ধব শক্তির ভবিষ্যতের দিকে পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা এতে রয়েছে। গেইলের উপভোক্তা-কেন্দ্রিক বার্তালাপকে আরও মজবুত করে এই অভিযানটি গৃহস্থালি পিএনজি (ডি-পিএনজি), বাণিজ্যিক পিএনজি (সি-পিএনজি), সিএনজি, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত পিএনজি (আ-ইপিএনজি) এবং এলএনজি-র প্রাসঙ্গিক ব্যবহারের মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এটি তুলে ধরে যে, কীভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমাধানগুলি দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এবং শিল্পক্ষেত্রেও অনায়াসে ব্যবহারের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে যে, সিএনজি, পিএনজি, আই-পিএনজি, এলএনজি এবং সিবিজি সহ পরিচ্ছন্ন ও অধিক পরিবেশবান্ধব শক্তির বিকল্পগুলির প্রাপ্যতা ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে 'ওয়াহ ক্যায় এনার্জি হ্যায়' তৈরি করা হয়েছে। এর দ্বিতীয় সংস্করণ গল্পটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় এবং 'মিশ্র পরিবার'-এর জীবনের গভীরে প্রবেশ করে। পরিবারটি দৈনন্দিন নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়— যেমন বারাণসীর একটি ছোট সফর এবং চেনা নৌকায় ভ্রমণ থেকে শুরু করে পারিবারিক উৎসব, আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সিনিয়র মিশ্র-র কারখানার আয়োজন পর্যন্ত। গেইল জানিয়েছে, প্রতিটি পর্বই একটি সহজ-সরল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বেছে নেওয়ার পক্ষে একটি শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরে। রসবোধ ও দৈনন্দিন জীবনের গল্পের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রগুলি দর্শকদের নিজেদের শক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত পছন্দের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে এবং পরিচ্ছন্ন বিকল্পগুলির দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। সিজন ২-এ উন্নত প্রোডাকশন গুণমান, দৃশ্যপট এবং গল্প বলার শৈলীর সঙ্গে একটি বিস্তৃত সৃজনশীল ক্যানভাস দেখা যায়। ৮ থেকে ১০ মিনিটের প্রতিটি পর্ব গেইলের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে। ধারাবাহিক পর্বগুলির পরিপূরক হিসেবে গেইল 'ওয়াহ ক্যায় এনার্জি হ্যায়'-এর অ্যান্থেম 'নয়ে ভারত কি নয়ি এনার্জি'-ও প্রকাশ করেছে, যার সময়সীমা চার মিনিটেরও বেশি। এই সঙ্গীতটি গেইলের বিস্তৃত শক্তি পরিকাঠামো এবং উদ্ভাবনী সমাধানগুলিকে একসঙ্গে তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে বারাণসীতে ভারতের প্রথম ভাসমান (ফ্লোটিং) সিএনজি স্টেশন এবং সংকুচিত বায়োগ্যাস (সিবিজি)-র মতো নতুন উদ্যোগ। গানটির ভিডিওতে বিভিন্ন বয়সের, ভৌগোলিক অঞ্চলের এবং জীবনের প্রতিটি স্তরের উপভোক্তা ও সম্প্রদায়কে দেখানো হয়েছে। শিশু ও যুবকদের থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও এতে স্থান পেয়েছেন। এর গল্পটি তুলে ধরে যে কীভাবে সচেতন দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত এবং উন্নত জ্বালানি নির্বাচন ব্যক্তিগত কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ও এক অধিক টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে পারে।
এই অভিযানের ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে গেইলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার ও অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট উদ্যোগ, ডিজিটাল ব্যানার, রেডিও আউটরিচ, সিনেমা চেইন এবং গেমিফিকেশন-ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। সোশ্যাল মিডিয়া শর্টস এবং অন্যান্য ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তুগুলিকে আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যান্থেমটি স্পটিফাই, অ্যামাজন মিউজিক, গানা এবং জিও-সাভন সহ প্রধান মিউজিক-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযান সম্পর্কে গেইলের পরিচালক (মানবসম্পদ) আয়ুষ গুপ্ত বলেন, 'ওয়াহ ক্যায় এনার্জি হ্যায়' সিজন ২ এবং আমাদের অ্যান্থেম 'নয়ে ভারত কি নয়ি এনার্জি' ভোক্তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন শক্তির বিকল্প এবং পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কে অধিক সচেতনতা জাগ্রত করার একটি প্রয়াস। তিনি আরও বলেন, যুক্তিযুক্ত, বাস্তবসম্মত এবং সহজ গল্পের মাধ্যমে আমরা ভারতীয়দের আরও বুদ্ধিদীপ্ত ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী জ্বালানির বিকল্প বেছে নিতে উৎসাহিত করতে চাই এবং এটি বোঝাতে চাই যে পরিচ্ছন্ন শক্তি কীভাবে পরিবেশ ও দৈনন্দিন জীবন— উভয়ের ওপরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা জেন জি-কেও সচেতনভাবে এই আলোচনার অংশ করেছি, কারণ তরুণরা কেবল আগামীকালের উপভোক্তা নয়, বরং শক্তি পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকও বটে। তিনি বলেন, অভিযানের প্রতিটি গল্প গেইলের পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবস্থার একটি ভিন্ন দিককে জীবন্ত করে তোলে এবং নানা ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে। পরিচ্ছন্ন গতিশীলতা (গতিশীল পরিবহন) এবং গৃহস্থালি ব্যবহার সহজ করা সিএনজি ও পিএনজি থেকে শুরু করে অধিক পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ শিল্প ও বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণকারী ট্রান্সপোর্ট এলএনজি এবং কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পিএনজি পর্যন্ত— এই অভিযান আমাদের সমাধানের ব্যাপকতাকে প্রদর্শন করে। আয়ুষ গুপ্ত আরও উল্লেখ করেন, আমরা এতে 'গেইল উৎকর্ষ'-কেও অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানকারী আমাদের সিএসআর উদ্যোগ। এর পাশাপাশি বারাণসীর ফ্লোটিং সিএনজি স্টেশনগুলিকেও যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, গেইলের উপস্থিতি কেবল শক্তি সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টিতেও প্রসারিত। এই নানা গল্পের মাধ্যমে 'ওয়াহ ক্যায় এনার্জি হ্যায়' দেশজুড়ে উপভোক্তাদের কাছে পরিচ্ছন্ন শক্তি পরিবর্তনকে আরও সহজ, প্রাসঙ্গিক ও অর্থপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করে।
পরিচ্ছন্ন ও অধিক টেকসই শক্তির বিকল্পগুলির দিকে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের মধ্যে গেইল (ইন্ডিয়া) লিমিটেড প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রহণ ও তার ব্যাপক ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করে চলেছে, যা একটি পরিচ্ছন্ন শক্তির ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। নিজস্ব বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও এবং ক্রমবর্ধমান উপভোক্তার কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে গেইল পরিচ্ছন্ন শক্তির বিকল্পগুলির পরিবেশগত ও দৈনন্দিন সুবিধার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সার্বিক টেকসই লক্ষ্যগুলিতেও অবদান রাখছে। বিশিষ্ট অভিনেতা শ্রীকান্ত বর্মা, দিব্যা জগদালে, লভ ভিসপুতে এবং আহমেদ খান— এই চারজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি স্থায়িত্ব, পরিচ্ছন্ন শক্তির বিকল্প এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রচারাভিযানের বার্তাকে একটি সহজ ও আকর্ষণীয় মাত্রা প্রদান করে।
গেইল ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস সংস্থা, যার প্রাকৃতিক গ্যাস ভ্যালু চেইনে বিস্তৃত উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রেডিং ও ট্রান্সমিশন, এলপিজি উৎপাদন ও ট্রান্সমিশন, এলএনজি রি-গ্যাসিফিকেশন, পেট্রোকেমিক্যালস, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন, অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রভৃতি। এটি সারা দেশে বিস্তৃত ১৮,৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মালিকানাধীন ও এটি পরিচালনা করে। গেইল দেশজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতা বাড়াতে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য একসঙ্গে একাধিক পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তাদের ওয়েবসাইট https://changetheair.org/dev/wkeh/ -এ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ