
কলকাতা, ৮ অক্টোবর (হি.স.) :
মালদা জেলার মানিকচকে গঙ্গার ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে একগুচ্ছ ত্রাণ সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে পৌঁছালেও মানিকচক পৌঁছেই তিনি বন্যার্তদের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার স্পষ্ট বার্তা দেন। বৃহস্পতিবার মানিকচক বিএসএস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ জনসভায় নদীভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলির নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সাহায্যের সূচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী রিমোট কন্ট্রোলের বোতাম টিপে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) পদ্ধতির মাধ্যমে ঘোষিত এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, যাঁদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, তাঁরা প্রত্যেকে ১.৮০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। অন্যদিকে, যাঁদের বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের ৯০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহারসামগ্রী তুলে দেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি পূর্ববর্তী শাসকদলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই চরম দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের কথা কেউ ভাবেনি। স্থানীয় অধিবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য কোনও বাস্তবমুখী পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। তবে আমি প্রথম দিন থেকেই এই দুর্গত মানুষগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ যেন মনে না করেন যে মুখ্যমন্ত্রী শুধু বক্তৃতা দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করছেন। এখানে আসার পথে হেলিকপ্টার থেকে দীর্ঘ ২০ মিনিট ধরে আমি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি গ্রাম, ভেঙে যাওয়া রাস্তা ও ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধগুলির আকাশপথে পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা করেছি। আমি নিজের মোবাইল ফোনে তার ভিডিও-ও রেকর্ড করেছি। আপনাদের সকলকে এই যন্ত্রণা ও দুর্দশা থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়েই আমি আজ কলকাতায় ফিরছি।
জনসভার কাজ শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী রতুয়া ও মানিকচক এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ