
জোশীমঠ, ১ নভেম্বর (হি.স.): উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ৬ জনেরই দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ ও কঠিন অভিযানের পর রবিবার উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধার করা দেহগুলি প্রথমে সড়কপথে জোশীমঠের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এনটিপিসি হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে করে ৬ জনের দেহ ঋষিকেশের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থার দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থলটি ছিল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে পৌঁছনোর পথও ছিল অত্যন্ত কঠিন। ফলে উদ্ধারকর্মীদের বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হয়। প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ভারতীয় সেনা, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বন দফতরের কর্মীরা সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালান।উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে একে একে ছ’জনের দেহ নিরাপদে বের করে আনেন। পরে সেগুলি সড়কপথ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। পাহাড়ি এলাকার দুর্গমতা এবং যাতায়াতের সমস্যার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সংস্থার লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যৌথভাবে কাজে লাগানো হয়।এরপর দেহগুলি জোশীমঠের সামুদায়িক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেগুলি ঋষিকেশের এইমসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ছ’জনের দেহ উদ্ধার এবং নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর বদরীনাথ ধাম থেকে দেহরাদূনে ফেরার পথে চামোলি জেলার জোশীমঠ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার। ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের এএস-৩৫০বি-৩ মডেলের হেলিকপ্টারটি দুপুর প্রায় ১টা ১৪ মিনিটে বদরীনাথ হেলিপ্যাড থেকে দেরাদুনের সহস্রধারা হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পাইলট-সহ মোট ছ’জন ছিলেন ওই হেলিকপ্টারে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন যাত্রী ছিলেন।জোশীমঠ এলাকার চায়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলের মধ্যে হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্ঘটনাস্থল পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা হওয়ায় সেখানে পৌঁছনো এবং উদ্ধারকাজ চালানো সহজ ছিল না। দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ হেলিকপ্টারের ছ’জন আরোহীরই মৃত্যু হয়।দুর্গম পাহাড়ি পথ, উচ্চতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে একাধিক সংস্থার কর্মীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত যৌথ উদ্যোগে সকলের দেহ উদ্ধার করে ঋষিকেশের এইমসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধারের অভিযান সম্পূর্ণ হল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য