
কলকাতা, ৬ নভেম্বর (হি.স.): কলকাতা পৌর নিগম (কেএমসি)-সহ রাজ্যের সাতটি পৌর সংস্থার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু না করার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাতে উত্তর কলকাতার একটি কালীপুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার যেমন পূর্ণ আইনি লড়াই চালাবে, তেমনই সাধারণ নাগরিকদের পরিষেবা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। অচলাবস্থা কাটাতে ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডেই বিশেষ 'সমন্বয়কারী' (কো-অর্ডিনেটর) নিয়োগের স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন তিনি।
পুজো উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বিরোধীদের একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রার্থী নেই, জনভিত্তি নেই, ভোটার নেই—তাই যে কোনও মূল্যে নির্বাচন বন্ধ করার চক্রান্ত চালাচ্ছেন। আপনারা নির্বাচনে জিততে পারবেন না বলেই আদালতে ছুটেছেন। আপনারা আদালতে গিয়েছেন, যান; সরকারও আদালতে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি দিয়ে আইনি লড়াই লড়বে।
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বিকল্প ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে জানান, আমি কথা দিচ্ছি, আগামী ৩০ নভেম্বরের পর পৌর নিগম আইনের আওতায় কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে 'সমন্বয়কারী' নিয়োগ করব। প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করবে।
শহরের পরিষেবা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বা আইনি লড়াইয়ের কারণে সাধারণ কলকাতাবাসীর জীবনযাত্রা স্তব্ধ হতে দেওয়া যায় না। পানীয় জল সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও পার্কের সাফাই, পথবাতির নজরদারি কিংবা নিকাশি ও ট্রাফিকের মতো অপরিহার্য নাগরিক পরিষেবা কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে আইনের মধ্যে থেকেই সরকার এই বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর করতে চলেছে।
বিরোধীদের উদ্দেশে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমার ওপর রাগ দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। অনেক অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে আমি এখানে পৌঁছেছি। আমাকে আর কত পরীক্ষায় বসতে হবে বিরোধীরা তা জানিয়ে দিক, আমি সব পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতা পৌর নিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা সীমানা নির্ধারণ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞপ্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিআই(এম)। গত ২৯ অক্টোবর একক বেঞ্চ এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দিয়ে রাজ্যকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশের নির্দেশ দেয়। একক বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীরা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে যান। শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওয়ার্ড সীমানা পুনর্গঠন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। আদালতের এই আদেশের পরই বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সমন্বয়কারী নিয়োগের পাল্টা চাল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ