
বীরভূম, ১১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও দোলের দিন বসন্তোৎসব করবে না বিশ্বভারতী। তার বদলে নিজেদের মতো করে ঘরোয়াভাবে বসন্ত বন্দনার আয়োজন করবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে বসন্ত বন্দনার দিন এখনও স্থির হয়নি। বুধবার বিকেলে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এ কথা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তিনি বলেন, মানসিকতা পরিবর্তন না হলে সকলকে নিয়ে এ উৎসব আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না, এমনও জানান তিনি। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, বিশ্বভারতীতে শেষ বার বড় আকারে বসন্ত উৎসব হয়েছিল ২০১৯ সালে। গত বছরও বিশ্বভারতী বসন্তোৎসবের পরিবর্তে বসন্ত বন্দনার আয়োজন করেছিল। যদিও এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও পর্যটকদের কিছুটা হলেও মন খারাপ। তবে দোলের দিন বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব আয়োজন না হলেও বোলপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্ন থেকে বসন্ত উৎসব অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। একটা সময় দোল পূর্ণিমার দিনে বসন্ত উৎসব আয়োজন করতো কর্তৃপক্ষ। তবে, বছরের পর বছর যেভাবে ভিড় বাড়ছিল তাতে ক্যাম্পাসের স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় কর্তৃপক্ষ। এর মাঝে বহিরাগতদের ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাম্পাসের বাইরে মেলার মাঠে বসন্ত উৎসব আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু প্রবল গরমে অনেক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় পুনরায় অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। তবে ২০১৯ সালের বসন্ত উৎসবে পর্যটকদের ভিড় কার্যত জনসমুদ্রের চেহারা নেয়। ভিড়ের চোটে কয়েক ঘন্টার জন্য বোলপুর শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। ওই বছরই সর্বসাধারণের জন্য শেষবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে করোনার কারণে প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায় ওই অনুষ্ঠান। তারপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বসন্ত উৎসব দোল পূর্ণিমার পরিবর্তে আগে বা পরে ঘরোয়াভাবেই আয়োজন করে আসছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ