জাতিসংঘের 'বাল্যবিবাহ বিরোধী দিবস' পালনের আহ্বান শিশু অধিকার কর্মী তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ভুবন রিভুর
কলকাতা, ১০ মার্চ (হি.স.): বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিখ্যাত শিশু অধিকার কর্মী তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ভুবন রিভু। এইজন্য তিনি জাতিসংঘের কাছে বাল্যবিবাহ বিরোধী দিবস ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নারীর

বাল্যবিবাহ সেমিনার  
 

কলকাতা, ১০ মার্চ (হি.স.): বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিখ্যাত শিশু অধিকার কর্মী তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ভুবন রিভু। এইজন্য তিনি জাতিসংঘের কাছে বাল্যবিবাহ বিরোধী দিবস ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নারীর অবস্থা বিষয়ক জাতিসংঘের একটি কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যদিও আজও বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি তিন সেকেন্ডে একটি করে বাল্যবিবাহ হয়ে চলেছে।

ভুবন রিভু বলেন, বাল্যবিবাহ শিশু ধর্ষণের চেয়ে কম নয়। এর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ জোরদার করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি দিবসের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেনের প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু বলেন, ভারত দেখিয়েছে যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব। প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং শিশু, সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সমগ্র সরকার এবং সমগ্র সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমাদের দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, এই প্রবণতা ২৩ থেকে ১৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘকে বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন, জবাবদিহিতা জোরদার করতে এবং বিশ্বব্যাপী সরকার ও সমাজকে এই অপরাধ বন্ধ করার জন্য একত্রিত করার লক্ষ্যে একটি বিশ্ব বাল্যবিবাহ নির্মূল দিবস করতে হবে। সিয়েরা লিওনের ফার্স্ট লেডি ডাঃ ফাতিমা মাদা বায়ো-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সর্বসম্মতিক্রমে বাল্যবিবাহ নির্মূলের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি দিবসের এই দাবিকে সমর্থন করেন। ভুবন রিভু অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন দেশ বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ছিলেন জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেনের জেনারেল কাউন্সেল রচনা ত্যাগী।

উল্লেখ্য, জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন হল দেশের বৃহত্তম এনজিও নেটওয়ার্ক যা ৪৫১টি জেলায় ২৫০টিরও বেশি অংশীদারের সঙ্গে শিশু সুরক্ষা এবং শিশু অধিকারের জন্য কাজ করে চলেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। এই এনজিও সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামনের সারির কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে গত তিন বছরে ভারতে প্রায় ৫ লক্ষ বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande