
মস্কো, ২৯ মার্চ (হি.স.): ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় বড় ধাক্কা লেগেছে। বাল্টিক সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি বন্দর প্রিমোরস্ক ও উস্ত-লুগায় ভয়াবহ আগুন লাগার জেরে কাঁচা তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের লোডিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার রফতানি ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর প্রিমোরস্ক ও উস্ত-লুগা বন্দরে তেল লোডিং স্থগিত রাখা হয়েছে। হামলার ফলে ওই এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সূত্রের খবর, উস্ত-লুগায় রাশিয়ার পাইপলাইন সংস্থা ট্রান্সনেফট-এর তেল সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে আগুন লাগে। সেই আগুন থেকে ওঠা ঘন কালো ধোঁয়া দূরবর্তী ফিনল্যান্ড থেকেও দেখা গিয়েছে। প্রিমোরস্ক বন্দরে সাম্প্রতিক হামলার পর সেখানকার আগুনও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হামলার পর উস্ত-লুগা অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। একাধিক তেল ট্যাঙ্কে এখনও আগুন জ্বলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি এবং তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, কিছু ইউক্রেনীয় ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে প্রতিবেশী দেশ লাতভিয়া ও এস্তোনিয়ায় গিয়ে পড়ে। এস্তোনিয়ায় একটি ড্রোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ধাক্কা খেলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ দাবি করেছে, এই হামলায় তেল লোডিং অবকাঠামো ও সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের হামলা রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার তেল রফতানি ব্যবস্থার ওপর এটি এখনও পর্যন্ত অন্যতম বড় আঘাত। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন পশ্চিম এশিয়াতেও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে প্রতিদিন ১০ লক্ষ ব্যারেলের বেশি কাঁচা তেল রফতানি করা সম্ভব। গত বছর উস্ত-লুগা থেকে প্রায় ৩২.৯ মিলিয়ন টন এবং প্রিমোরস্ক থেকে ১৬.৮ মিলিয়ন টন তেলজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, মস্কো-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে রাতভর মোট ৩৮৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও রফতানি রুটগুলিতে ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা, বিশেষ করে যখন শান্তি আলোচনা থমকে রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য