অবিলম্বে চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষের
।। রাজীব দে ।। ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ-এর প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং বর্তমানে কারাবন্দি হিন্দু আধ্যাত্মিক গুরু চিন্ময়কৃষ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র ঘোষ। পাশের ছবিতে আধ্যাত্মিক গুরু চিন্ময়কৃষ্ণ দাস (ফাইল ফটো)


হাটহাজারির আশ্রমে চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ রবীন্দ্র ঘোষের। পাশের ছবিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার।


।। রাজীব দে ।।

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ-এর প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং বর্তমানে কারাবন্দি হিন্দু আধ্যাত্মিক গুরু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আজ সোমবার একান্ত সাক্ষাৎকারে এই দাবি জানান রবীন্দ্র ঘোষ।

৭৬ বছর বয়সি প্রবীণ মানবাধিকার কর্মী রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমি একাত্তরে লড়াই করেছিলাম গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ার জন্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ৪৭ পরবর্তী সময় থেকে এ দেশে সংখ্যালঘুরা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।’ বলেন, গত ৩০ বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রশাসনের সহায়তায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ এবং মানবাধিকার কর্মী হেমন্ত জলদাস।

প্রায় ২০ মিনিটের সেই সাক্ষাতের প্রসঙ্গে রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘চিন্ময় প্রভু কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের নেতা নন, তিনি সমাজের এবং শোষিত জনগণের নেতা। তাঁকে যেভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও তাঁর মনোবল এখনও অত্যন্ত দৃঢ়।’ সাক্ষাৎকালে দ্রুত জামিন পাওয়ার বিষয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আদালতে জামিন শুনানির সময় আইনজীবীদের একাংশের হাতে হেনস্তার শিকার হওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আইনজীবীরা একে অপরের বন্ধু হওয়ার কথা, অথচ আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, চরমভাবে হয়রানি করা হয়েছে, যা আইনি পেশার জন্য কলঙ্কজনক।’ তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্ট থেকে ইতিপূর্বে জামিন পেলেও চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও পাঁচটি 'মিথ্যা ও বানোয়াট' মামলা দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়।

কারাগারে সাক্ষাতের পর প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম জেলাশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়াঁর সঙ্গে মানবাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় করে বিদ্যমান কিছু সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। জেলাশাসক প্রতিনিধি দলকে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রচেষ্টার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

পরবর্তীতে রবীন্দ্র ঘোষ হাটহাজারি উপজেলার উত্তর মেখল আশ্রমে গিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণের মা সন্ধ্যারানি ধরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি আশ্রমের ভক্তদের সঙ্গে বিশেষ প্রার্থনায়ও অংশ নিয়েছেন।

রবীন্দ্র ঘোষ জানান, তাঁর সংগঠন 'বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ' এ পর্যন্ত ৩,৬৫৩টি স্পট ইনভেস্টিগেশন বা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং প্রায় এক হাজার ধর্মান্তরিত মহিলাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রবীণ এই আইনজীবী অঙ্গীকার করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও ন্যায়ের পথে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে তিনি আমৃত্যু রাজপথে ও আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি সংবিধানের মূল আদর্শে দেশ পরিচালনা এবং আইনের চোখে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande