
।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশের কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ঘন জঙ্গল থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর হিন্দু সন্ন্যাসী নয়ন দাশের (নয়ন বিশ্বাস) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে আগুনে পোড়ানোর মতো ঝলসানো জখম স্পষ্ট।
নিহত নয়ন দাশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত দুবছর ধরে তিনি খুরুশকুলের ‘শ্রীশ্রী সার্বজনীন শিব-কালী মন্দির’-এ আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন। মন্দিরের পাশে একটি কুঁড়েঘরে তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
স্ত্রী অঞ্জনা দাশ জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাত ৯-টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নয়ন দাশকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। ওই রাতে ভাত না খেয়েই অজ্ঞাত ব্যক্তির ডাকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এর পর আর ফিরে আসেননি। পরের দিন ২০ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ গভীর জঙ্গল থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, “ধারণা করা হচ্ছে, পরিচিত কেউ নয়নকে ডেকে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায় এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নয়ন দাশ অত্যন্ত শান্ত ও মৃদুভাষী ছিলেন। এলাকায় তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। এমন একজন ধার্মিক সেবককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস