
বাঁকুড়া, ১৪ মে (হি. স.) : উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে এবার কিছুটা হতাশ বাঁকুড়া জেলা। গত কয়েক দশকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষাতেই এই জেলা থেকে অসংখ্য কৃতি ছাত্র-ছাত্রীর নাম মেধা তালিকায় উঠে এলেও, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্য মেধা তালিকায় জেলার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন প্রত্যুষা নন্দী। বাঁকুড়া বঙ্গ বিদ্যালয়ের এই ছাত্রী ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছেন। এ বছর মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জেলার ১৪ জন পড়ুয়া জায়গা করে নিলেও উচ্চ মাধ্যমিকে সেই সংখ্যা মাত্র এক-এ এসে দাঁড়ানোয় জেলার শিক্ষামহলে কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা যাচ্ছে।
প্রত্যুষার এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন। তিনি জানিয়েছেন, প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যম ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স -কে হাতিয়ার করে নিজের প্রস্তুতি সেরেছিলেন। প্রযুক্তির এই সঠিক প্রয়োগই তাঁকে অন্যদের থেকে এগিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রত্যুষার বাবা আনন্দমোহন নন্দী পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক। মেয়ের পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি সপরিবারে বিষ্ণুপুর থেকে এসে বাঁকুড়া শহরের প্রতাপবাগান এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছেন। মা মানসী নন্দীও এক সময় শিক্ষকতা করতেন, কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি পড়াশোনার তদারকিতে মন দেন। প্রত্যুষা তাঁর এই সাফল্যের কৃতিত্ব মা-বাবার ত্যাগ ও শিক্ষকদের পরামর্শকেই দিয়েছেন।
ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও দরদী চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান প্রত্যুষা। এ বছর তাঁর নিট পরীক্ষাও যথেষ্ট ভালো হয়েছিল, কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় কিছুটা হতাশ তিনি। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, পুনরায় পরীক্ষা দিয়েও তিনি সফল হবেন। জেলার শিক্ষানুরাগীদের মতে, মেধা তালিকায় এ বছর সংখ্যায় কম হলেও প্রত্যুষা একাই জেলার গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্য আগামী দিনে জেলার অন্যান্য পড়ুয়াদের আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট