
গুয়াহাটি, ১৬ মে (হি.স.) : পণ্য পরিবহণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন এবং বাণিজ্য ও পণ্য চলাচলকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপগুলোর ফলে শক্তিশালী গতি অব্যাহত রেখেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনগত পদক্ষেপ হিসেবে ১৬ এপ্রিল থেকে কাটিহার ডিভিশনের অধীনে রহমতপুর ও পাওয়াখালি স্টেশন দুটি অভ্যন্তরীণ এবং বাংলাদেশগামী, উভয় প্রকার পণ্য পরিবহণ সহ বহির্গামী ও অভ্যন্তরীণ পণ্য চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বাঁশ পরিবহণকে উৎসাহিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে থেকে সমস্ত বাঁশ পরিবহণের ক্ষেত্রে, যা কাভারড ওয়াগনে বিজি সেশন সারচার্জ থেকে ১ মে (২০২৬) থেকে ৩০ এপ্রিল (২০২৭) পর্যন্ত, অর্থাৎ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করা হয়েছে।
এই সময়কালে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ধুপগুড়ি স্টেশন থেকে নিউ তিনসুকিয়া ও শালচাপড়া স্টেশনে ৩৭৮ ওয়াগন আলু লোডিং-এর নয়টি রেক হেন্ডলিং করেছে। এর মাধ্যমে ১.৬১ কোটি টাকা পণ্য পরিবহণ রাজস্ব আয় হয়েছে। কাটিহার ডিভিশনের অধীনে পূর্ণিয়া জংশন এবং জালালগড় স্টেশন থেকে ১২৬টি ওয়াগন ভর্তি ভুট্টার তিনটি রেক লোডিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ০.৩৩ কোটি টাকা মাশুল রাজস্ব আয় হয়েছে।
আজ শনিবার এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, লামডিং ডিভিশন একাধিক পণ্য পরিবহণে আকর্ষণীয় পণ্য লোডিঙের সাফল্য অর্জন করেছে। ময়নারবন্দ, পাঁচগ্রাম, ডিটকছড়া, বিহাড়া, মলভম এবং শোখুভি থেকে জিরানিয়া, সাব্রুম, বিলোনিয়া, আমবাসা, উদয়পুর ও সাইরাং সহ বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ১,৬৮৪ ওয়াগন স্টোন চিপস বুক করা হয়েছে। এর ফলে ৭.৬৪ কোটি টাকার পণ্য পরিবহণ রাজস্ব আয় হয়েছে। এছাড়া, তেতেলিয়া, স্টার, লঙ্কা, শালচাপড়া এবং কমলাজারি থেকে ডিমাপুর, কাটিহার, নিউ তিনসুকিয়া, যোরহাট টাউন, নিউ জলপাইগুড়ি, নিউ বঙাইগাঁও, রঙিয়া, জিরানিয়া, সাইরাং এবং ফালাকাটার মতো গন্তব্যস্থলে ১,৯৮৬ ওয়াগন সিমেন্ট বুক করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ১০.৯৬ কোটি টাকার পণ্য পরিবহণ রাজস্ব আয় হয়েছে।
এছাড়া, পেট্রোলিয়াম তেল ও লুব্রিকেন্টের (পিওএল) ৪০০টি ওয়াগন বুক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩.৪১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ব্যাম্বো সেক্টরে, লামডিং ডিভিশনের অন্তর্গত লামসাখাং থেকে ২০ ওয়াগন ব্যাম্বো চিপস লোডিং করা হয়। এর মাধ্যমে ০.১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সংলগ্ন অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উন্নয়নের সহায়তা করতে পণ্য পরিবহণের পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ, গ্রাহক-কেন্দ্রিক নীতির উন্নয়ন এবং দক্ষ পরিবহন সেবা নিশ্চিত করার ওপর ক্রমাগত গুরুত্ব আরোপ করে চলেছে বলে প্রেস বার্তায় দাবি করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব