প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আগরতলায় পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
আগরতলা, ১৬ মে (হি.স.) : প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে বুনিয়াদী শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শনিবার সমাপ্ত হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হ
শিক্ষক প্রশিক্ষণ


আগরতলা, ১৬ মে (হি.স.) : প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে বুনিয়াদী শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শনিবার সমাপ্ত হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ মিলিন্দ ধর্মরাও রামটেকে।

গত ১২ মে থেকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুনভাবে চালু হওয়া ৯৪টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল খেলার ছলে শিশুদের শিক্ষাদানের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষা সচিব ডঃ রামটেকে বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম ছয় বছর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের সঠিক যত্ন ও শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলে। এই কারণেই জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলেই তারা শিক্ষা ও ভালো অভ্যাস সহজে গ্রহণ করবে। তাঁর মতে, বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি রয়েছে শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষায়, আর সেই দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষা দফতরের সব উদ্ভাবনী উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন শিক্ষকেরা দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশিক্ষণের শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন শিখন-সহায়ক উপকরণের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পাপেট, চার্ট ও শিক্ষাসামগ্রী এবং সেগুলোর ব্যবহার পদ্ধতি উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুনিয়াদী শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম অধিকর্তা হর্ষিতা বিশ্বাস এবং ওএসডি অভিজিৎ সমাজপতি। যুগ্ম অধিকর্তা হর্ষিতা বিশ্বাস বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রয়োগ করলে তবেই এই উদ্যোগের সার্থকতা আসবে। তিনি জানান, আগামী দিনে ধাপে ধাপে রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

ওএসডি অভিজিৎ সমাজপতি জানান, চলতি বছরে রাজ্যের মোট ৪৫০টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক বিভাগ চালু করা হয়েছে। এর ফলে আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ছাত্রভর্তির হার প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমগ্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন ৬ জন মাস্টার ট্রেনার এবং ৬ জন মেন্টর ট্রেনার, যাঁরা পূর্বেও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণে যুক্ত ছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মাস্টার ট্রেনার ও প্রশিক্ষণার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। পরে অতিথিদের হাত দিয়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে শংসাপত্র বিতরণ করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande