
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৬ মে (হি.স.) : এক পশলা বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান জল। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি নর্দমার নোংরা জল ঢুকে পড়ছে বাড়ির উঠোন ও ঘরে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এমন দুর্ভোগের শিকার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পুর পরিষদের সারদাপল্লী এলাকার বাসিন্দারা। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
পাবিয়াছড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কুমারঘাট পুর পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থার অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির জল ও নর্দমার ময়লা একসঙ্গে রাস্তা উপচে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা সম্পা দাস জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা এই সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি হলেই ঘরে জল ঢুকে পড়ে, বাইরে বের হওয়াও অসম্ভব হয়ে ওঠে। বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের বদলে মিলেছে শুধু আশ্বাস।
ভুক্তভোগী কেশব দেবের বক্তব্য, কুমারঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার জল সারদাপল্লীর দিকে নেমে আসে। সঠিক নর্দমা না থাকায় সেই জল জমে রাস্তা ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। তাঁর দাবি, দ্রুত উন্নত ড্রেন নির্মাণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুবোধ রুদ্রপাল বলেন, এলাকায় একটি ড্রেন থাকলেও তার গভীরতা ও ধারণক্ষমতা অত্যন্ত কম। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই তা উপচে পড়ে। নর্দমা নির্মাণের জন্য বাসিন্দারা জায়গাও ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কাজ শুরু হয়নি।
আরতি মিত্র অভিযোগ করেন, এলাকার সমস্যার কথা বহুবার স্থানীয় বিধায়ককে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ভোটের আগে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস মিললেও ভোটের পর আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
বাসিন্দা আশুতোষ দত্ত জানান, প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এই জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই অনেক পরিবার কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রী থেকে অফিসযাত্রী— সকলকেই জল ভেঙে চলাচল করতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আধুনিক ও স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলে সারদাপল্লীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ