
তেহরান, ১৭ মে (হি.স.) : হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন পরিকল্পনা নিতে চলেছে ইরান। সেই পরিকল্পনায় জাহাজগুলির থেকে টোল আদায়ের প্রস্তাবও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। তার পাল্টা জবাবে ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, বিশ্ব এখন নতুন এক ব্যবস্থার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ইরানের এই নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর মার্কিন অস্ত্রবাহী জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের উপ-রাষ্ট্রপতি মহম্মদ রেজা আরিফ বলেন, অতীতে তেহরান হরমুজের উপর নিজের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ না করে ভুল করেছে, এবার সেই ভুল আর করা হবে না।
এদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দিয়েছে ইরান। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনা কার্যত ভেস্তে গিয়েছে এবং ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের জন্যও প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন পরিবারগুলির উপরও পড়ছে।
অন্যদিকে, কাজাখস্তান ইরানের উদ্দেশে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। কাজাখ প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পাঠানো এই সাহায্যের মধ্যে রয়েছে টিনজাত মাংস, চিনি, আটা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ। ইরানে কাজাখস্তানের রাষ্ট্রদূত অনতালাপ ওনালবায়েভ বলেন, ইরান কাজাখস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক অংশীদার।
ইরানের সরকারি পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতিজনিত সমস্যার কারণে দেশে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৫৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ১১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার ও সৌদি আরবও। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি এবং সৌদি বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফৈসল বিন ফারহান আল সৌদ ফোনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কাতারের তরফে জানানো হয়েছে, চলমান সংকট সমাধানে সংলাপ ও মধ্যস্থতার পথেই এগোনোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য