দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক: অপচয় বন্ধ, স্বচ্ছ শাসন ও শীঘ্রই পুরভোটের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
দুর্গাপুর, ২১ মে (হি.স.) : দুর্গাপুরে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মশৈলী এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার কেবল হাততালি কুড়ানোর
শুভেন্দু অধিকারী


দুর্গাপুর, ২১ মে (হি.স.) : দুর্গাপুরে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মশৈলী এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার কেবল হাততালি কুড়ানোর জন্য বা লোকদেখানো কাজ করে না। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা অত্যন্ত ভাবনাচিন্তা করে নেওয়া হয় এবং তা মাটিতে রূপায়ণ করে দেখানো হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিনের বৈঠকে চারজন মন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোনো পথ অবরোধ বা যানজট হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি।

পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে এই ধরনের একটি প্রশাসনিক বৈঠকের নামে ২ থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত অপচয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার খরচ কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। এবারের বৈঠক অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে আয়োজন করা হয়েছিল এবং দুপুরের পরই সমস্ত আধিকারিকরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন, যার ফলে সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। আগে তিন দিন ধরে এলাহি আয়োজন, জাঁকজমক এবং হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করে কোটি কোটি টাকা ওড়ানো হতো। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এই ধরনের সমস্ত অপচয় পুরোপুরি বন্ধ করে সেই টাকা জনগণের পরিষেবার কাজে লাগানো।

'ডবল ইঞ্জিন সরকার'-এর ধারণার কথা পুনরুল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণ যা চায়, এই সরকার ঠিক সেটাই করে। সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকার দায়বদ্ধ।

বৈঠকে বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ জুন থেকে নিম্ন দামোদর, ঘাটাল, গান্ধী, মালদা এবং উত্তরবঙ্গ এলাকাকে প্রশাসনিকভাবে আলাদা ও সুসংগঠিত করা হবে, যাতে স্থানীয় সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতেও সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

অন্যদিকে, দুর্গাপুর নগর নিগমের (ডিএমসি) বকেয়া নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করার একচ্ছত্র অধিকার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। তবে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দুর্গাপূজা এবং কালীপূজার পর যেকোনো সময় এই নির্বাচন হতে পারে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। বিভাগীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সহযোগিতায় সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন, ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

২০১৭ সালের দুর্গাপুর পুরভোটের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সেবার বহু মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমান বিজেপি শাসনে এমনটা ঘটবে না। প্রতিটি ভোটার যাতে কোনও বাধা ছাড়াই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, তা সুনিশ্চিত করবে প্রশাসন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande