
দুর্গাপুর, ২১ মে( হি. স ) : বিজেপির শাসনকালে ফলতায় হওয়া প্রথম নির্বাচনকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মহোৎসব কীভাবে উৎসবে পরিণত হতে পারে, ফলতার সকাল তা দেখিয়েছে। শত চেষ্টা করেও উৎসবের ছবি ছাড়া আর কিছু দেখাতে পারেনি কেউ। ১০ বছর ধরে বঞ্চিত মানুষ ভোট দিয়েছে। ৯০ শতাংশ রিপোল হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর দক্ষিণবঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক। সেই উপলক্ষে দুর্গাপুরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সৃজনী চত্বরে ছিল নজরদারি ও নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা।
এদিন অন্ডাল বিমানবন্দরে নেমে মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে দুর্গাপুরে পৌঁছন। সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দুই বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে খোলা গাড়িতে মিছিল করে তিনি সৃজনী অডিটোরিয়ামে পৌঁছন এবং প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পাঁচ জেলার প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভায় প্রধান ও পুরপ্রধানরা অফিসে যাচ্ছেন না। ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। কেউ তাঁদের তাড়িয়ে দেয়নি। পঞ্চায়েত ও পুর নির্বাচনে ছাপ্পা এবং আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার গ্লানি কাজ করছে। সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তাই পঞ্চায়েতে সচিব এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে বিডিওরা কাজ করবেন।”
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আগামী এক-দু’মাসের মধ্যেই মানুষ পেতে শুরু করবেন।”
প্রাক বর্ষার প্রস্তুতি নিয়েও এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, “বন্যা মোকাবিলায় রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করা হয়েছে— নিম্ন দামোদর, ঘাটাল, কাঁথি, মালদা এবং উত্তরবঙ্গ। প্রাক বর্ষার আগে যা যা কাজ করা প্রয়োজন, তা করা হয়েছে। আমাদের সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল সরকার।”
সিন্ডিকেট ও রাজস্ব ফাঁস নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে পাথর থেকে দৈনিক ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আসত, এখন একদিনে ৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এতদিন কত রাজস্ব লিকেজ হত, তা এখান থেকেই স্পষ্ট। বালির ক্ষেত্রেও ভয়ঙ্কর রাজস্ব ফাঁস হত। বালির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে।”
শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেল, রেল ও ইসিএল মিলিতভাবে কাজ করবে। ফের শিল্পের জোয়ার আসবে। আমরা হাততালি কুড়োতে রাজনীতি করি না— কথা কম, কাজ বেশি।”
ফলতা নির্বাচন প্রসঙ্গে ফের মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির শাসনকালে ফলতায় প্রথম নির্বাচন হয়েছে। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছে। গ্রামবাসীরাই ভোটারদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে। তাই দুর্গাপুরের মানুষকে আশ্বস্ত করছি, দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পর যাতে পুর নির্বাচন হয়, সেই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা