
কাঠমান্ডু, ২১ মে (হি.স.) : নেপালের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদন গুরুংয়ের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সরকারি দফতরে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য ও নথি তলব করেছে। বৃহস্পতিবার কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রথমে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তারপর গুরুংকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে।
তদন্ত কমিটি শেয়ার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য শেয়ার বোর্ড, জমি কেনাবেচার তথ্যের জন্য অফিস এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য চেয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কয়েকটি সরকারি দফতরের কাছেও তথ্য চাওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
মন্ত্রী হওয়ার পর সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সুদন গুরুং। প্রথমে অভিযোগ ওঠে, তাঁর কাছে আইনসিদ্ধ সীমার বাইরে অতিরিক্ত জমি রয়েছে। পরে অস্বাভাবিকভাবে সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগও সামনে আসে।
এছাড়াও বর্তমানে জেলে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাটের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে গুরুংয়ের নাম উঠে আসে। এর পরেই তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন। দীপক ভাটকে ইতিমধ্যেই নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের আওতায় থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন গুরুং। পরে ২২ এপ্রিল তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১১ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রাক্তন উচ্চ আদালতের বিচারপতি অচ্যুত প্রসাদ ভান্ডারী-র নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল শোভাকান্ত পাউডেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহযোগী বিচারপতি অচ্যুতমণি নিউপানে।
নিউপানে জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে গুরুংয়ের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠিয়ে নথি চাওয়া হয়েছে। শেয়ার, জমি ও ব্যাঙ্কিং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই চাওয়া হয়েছে। নথি হাতে এলে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য