
ঝাড়গ্রাম, ২১ মে (হি.স.) : চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের হাতির হানায় মৃত্যু হল এক যুবকের। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মানিকপাড়া রেঞ্জের সাতপাটি এলাকায়। মৃতের নাম মঙ্গল মুর্মু (৩৩)। তাঁর বাড়ি এলানি গ্রামে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বনদফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মঙ্গল মুর্মু। পথে সাতপাটি কংসাবতী নদীর ধারের কাজুবাগান ও বাঁশবাগানের কাছে একটি গাছের তলায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই একটি হাতি তাঁকে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে তাঁকে তুলে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বনদফতর সূত্রে খবর, বুধবার রাতে চারটি হাতির একটি দল মানিকপাড়া রেঞ্জের রমরমা জঙ্গল থেকে মেদিনীপুর বন বিভাগের চাঁদড়া রেঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। কংসাবতী নদী পার হওয়ার আগেই সাতপাটি গ্রামের কাছে বাঁশ ও কাজুবাগানের মধ্যে তারা অবস্থান করছিল।
মৃতের দাদা রফিয়া মুর্মু বলেন, “ভাই কাজে যাচ্ছিল। গাছের তলায় বসে একটু বিশ্রাম করছিল। সেই সময় হাতি তাড়া করে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে।”
উল্লেখ্য, বুধবার সকালেও লোধাশুলি রেঞ্জের পূর্ণাপানি জঙ্গলে হাতি দেখতে গিয়ে হাতির হানায় মৃত্যু হয়েছিল ১৯ বছরের নীতিশ মাহাতোর।
এদিকে বনদফতরের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মানুষ হাতি দেখতে জঙ্গলে চলে যাচ্ছেন। বনকর্মীদের বক্তব্য, হাতির দল রাতে খাবারের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায় এবং দিনের বেলায় বিশ্রাম নেয়। সেই সময় মানুষ কাছে চলে গেলে হাতি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। হাতির গতিবিধি টের পেলেই বনদফতরের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো