
কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : টলিউডের ঐতিহ্যবাহী প্রযোজক ও পরিবেশক সংগঠন ‘ইম্পা’ -র অন্দরের বিবাদ এবার চরম আকার ধারণ করল। শুক্রবার সংগঠনের বৈঠক চলাকালীন দফায় দফায় উত্তেজনা, হাতাহাতি এবং তুমুল বিশৃঙ্খলার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইম্পা অফিস। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যে, বৈঠক মাঝপথে ছেড়েই বেরিয়ে যান বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চলতি মাসে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ইম্পাকে ঘিরে অশান্তি দানা বাঁধছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে একাধিক বৈঠক হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান সূত্র মেলেনি। শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক শুরু হতেই বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষুব্ধ সদস্যরা সরব হন। তা নিয়েই দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়।
মিটিং ছেড়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বেরিয়ে আসেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, ইম্পার বাইরের লোকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেতরে ঢুকিয়ে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে। কিছু পিআর কর্মী এবং বহিরাগতদের উপস্থিতিতে পুলিশের সামনেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয় বলে তাঁর দাবি।
থানায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পিয়া প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি কোনও রাজনৈতিক দলের অফিস, যেখানে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি করা হবে? বৈঠকে এমন বহু মানুষ ছিলেন যাঁরা ইম্পার সদস্যই নন। তাঁদের উপস্থিতিতে কোনও সাংগঠনিক আলোচনা হতে পারে না।” কয়েকজন প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধেই এই বহিরাগত আনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পিয়া সেনগুপ্ত সভাকক্ষ ত্যাগ করার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই ফের বৈঠক শুরু করেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। সেখানে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে প্রবীণ প্রযোজক রতন সাহাকে ‘অস্থায়ী সভাপতি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
যদিও এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানান, “যেভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমি নির্বাচিত হয়েছি, আমাকে সরাতেও সেই নিয়মই অনুসরণ করতে হবে। বিরোধী গোষ্ঠী পুলিশ বা সংগঠনের নিয়ম—কোনও কিছুই মানছে না। নিজেরা জোর করে নতুন কমিটি গড়ার চেষ্টা করছে। আমরা আইনি পথেই এর মোকাবিলা করব।”
অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ শতদীপ সাহা পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, প্রথমে পিয়া সেনগুপ্ত পদত্যাগে রাজি হলেও পরে আচমকাই নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন। বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে তাঁদের হাতে আর্থিক দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ্যে আনা হবে।
শতদীপের বক্তব্য, “এই কমিটিকে আমরা আর বৈধ বলে মানি না এবং কোনও স্বীকৃতিও দেওয়া হবে না। তাই সাধারণ সদস্যদের সমর্থনে আপাতত রতন সাহা অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।”
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি