অসমে পুলিশের গুলিতে ধরাশায়ী মরিকলং ডাকাতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কুখ্যাত খাইরুল আলি
নগাঁও (অসম), ২৬ মে (হি.স.) : অসমের নগাঁও জেলার অন্তর্গত রঙালু এলাকার বড়কান্দলিতে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে সংঘটিত গুলির লড়াইয়ে মরিকলং ডাকাতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ধরাশায়ী হয়েছে। নিহত ডাকাতকে উত্তর লখিমপুর শহরের থানা রোড এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত
পুলিশের গুলিতে হত মরিকলং ডাকাতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড খাইরুল আলি, চিহ্নিত সংঘর্ষস্থল


নগাঁও (অসম), ২৬ মে (হি.স.) : অসমের নগাঁও জেলার অন্তর্গত রঙালু এলাকার বড়কান্দলিতে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে সংঘটিত গুলির লড়াইয়ে মরিকলং ডাকাতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ধরাশায়ী হয়েছে। নিহত ডাকাতকে উত্তর লখিমপুর শহরের থানা রোড এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত ডাকাত খাইরুল আলি ওরফে মণি বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার ভোররাতে সংঘটিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নগাঁওয়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) পার্থপ্রতিম দাস জানান, গত ২৪ এপ্রিল রাতে মরিকলঙে জনৈক ডা. রঞ্জিত শইকিয়ার বাড়িতে ডাকাতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল খাইরুল আলি ওরফে মণি। ডাকাতির পর সে চেন্নাইয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

এসএসপি জানিয়েছেন, দু-তিনদিন আগে সে চেন্নাই থেকে রাজ্যে আসে। গতকাল সোমবার রাতে ফের নগাঁওয়ে আসে খাইরুল। রাঙলু পুলিশ ফাঁড়ির কাছে বড়কান্দলি মিকিরপাড় এলাকায় সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। তাদের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে গতকাল রাতে পুলিশের এক দল রঙালুর বড়কান্দলি এলাকায় পৌঁছে।

তিনি জানান, ডাকাতরা পুলিশের মুখোমুখি হতেই পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালাতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাত দলের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াই চলে। গুলি-লড়াইয়ের ফাঁকে চার-পাঁচজন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও দলের নেতৃত্বদানকারী কুখ্যাত ডাকাত খাইরুল আলি পুলিশের গুলিতে আহত হয়। তৎক্ষণাৎ তাকে নগাঁও মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়, জানান সিনিয়র পুলিশ সুপার। তিনি জানান, নিহত খাইরুল আলির কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল এবং দুটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

এসএসপি দাস জানান, খাইরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন নগাঁওয়ে। তার বিরুদ্ধে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। যে ধাবায় দেহব্যবসা চলত বলে অভিযোগ, সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। খাইরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর অনৈতিক কাজের সহযোগী রেকিব আলি বর্তমানে পলাতক।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে রাতে মরিকলং ডাকাতি কাণ্ডের আরেক অভিযুক্ত রাজিবুর রহমানকে নিয়ে তদন্ত চালানোর সময় সংঘটিত এক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল সে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২৪ এপ্রিল রাত প্রায় সাড় দশটা নাগাদ মরিকলঙে জনৈক চিকিৎসক ডা. রঞ্জিত শইকিয়ার বাড়িতে রেজাক আলি, রাজিবুর রহমান, নুর হোসেন আলি, উমর আলি, মিন্টু মল্লিক হোসেন, নাজিরুল ইসলাম, খাইরুল আলি সহ সাত সদস্যের এক ডাকাতের দল পড়েছিল। ডা. রঞ্জিত শইকিয়া এবং তাঁর স্ত্রী রূপরেখা ভূঞা শইকিয়ার মাথায় রড দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করেছিল রাজিবুল রহমান। ১০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুয়াহাটির বেসরকারি জিএনআরসি হাসপাতালে বছর ৪০-এর রূপরেখা শইকিয়ার মৃত্যু হয়।

ডা. শইকিয়ার বাড়িতে সংস্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রাজিবুলের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনসুকিয়া জেলায় অসম-অরুণাচল সীমান্তের লেখাপানি এলাকা থেকে রাজিবুলকে গ্রেফতার করেছিল।

ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকা ও সোনাদানা উদ্ধারের জন্য গত ১৫ মে রাতে নগাঁও পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত রাজিবুলকে নিয়ে অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু গভীর রাতে বড়ঘাট এলাকায় অন্য একটি গাড়ি পুলিশের গাড়িকে ধাক্কা মারে। প্রচণ্ড ধাক্কায় পুলিশের গাড়িটি পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে রাজিবুর রহমান সহ পুলিশ ইনস্পেক্টর বিমান গগৈ সহ দুই জওয়ান আহত হয়েছিলেন। রাজিবুলের দুই পা এবং হাতে আঘাত লেগেছে, জানিয়েছেন এসএসপি পার্থপ্রতিম দাস।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande