
লখনউ, ২৬ মে (হি.স.) : উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় একের পর এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উন্নাও জেলায়, যেখানে একটি ডাবল ডেকার বাস উল্টে এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক বন্দি-সহ ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বরাবাঁকিতে চার, নয়ডার বিভিন্ন এলাকায় আট, আলিগড়ে তিন এবং হামিরপুর ও মির্জাপুরে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।
উন্নাওয়ে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আওরাস থানা এলাকার লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে মঙ্গলবার ভোরে একটি ডাবল ডেকার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনায় মৃত্যু হয় ছ’জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের সিওয়ান পুলিশ লাইনে কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর রামচন্দ্র রাম এবং গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা বন্দি ছত্তরপাল সিং তোমর।
এছাড়াও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিজয় গুপ্তা, রবি বরণ, সূরজ জামালাল ও পল্লব কুমার। জানা গিয়েছে, পুলিশকর্মীরা বন্দি ছত্তরপাল সিং তোমরকে গুরগাঁও আদালতে হাজিরা করিয়ে ফের সিওয়ানে ফিরছিলেন। বাসে ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা। ঘটনায় অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তিনজন পুলিশকর্মীও রয়েছেন।
বরাবাঁকিতে চার যুবকের মৃত্যু
বরাবাঁকি জেলার হায়দরগড় এলাকায় সোমবার গভীর রাতে আরও একটি দুর্ঘটনায় চার যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
মৃতদের পরিচয় রাহুল কুমার, রাহুল সিং, সত্যম সিং ও সূরজ সিং হিসেবে জানা গিয়েছে। আহত পঙ্কজ, প্রশান্ত ও চন্দনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
নয়ডায় ২৪ ঘণ্টায় আট মৃত্যু
নয়ডার বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক পথদুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সেক্টর-১২৬ এলাকায় আহত আশিস চন্দ্র পাণ্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এছাড়াও সুরজপুর, সেক্টর-২৪, বাদলপুর, নলেজ পার্ক এবং দাদরি এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন হরেন্দ্র, লোকেশ, সূরজ, হীরা যাদব এবং গৌরব কুমার। এছাড়া সেক্টর-১১৩ এলাকায় একটি রোড়ি-বদরপুর গুদামে কাজ করা ১৬ বছরের কিশোর অনূপ ট্র্যাক্টর উল্টে চাপা পড়ে মারা যায়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আলিগড়ে ট্রাকের সংঘর্ষে শিশুসহ মৃত তিন
আলিগড় জেলার পানেঠি এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিন বছরের শিশু সূর্যাংশীও রয়েছে। নিহত বাকি দুইজন বীরেন্দ্র ও নীতেশ। তাঁরা সকলেই কান্নৌজের বাসিন্দা। ট্রাকে কাগজের রোল বোঝাই ছিল, যা হরিয়ানার দিকে যাচ্ছিল।
হামিরপুরে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
হামিরপুর জেলার মওদহা এলাকায় সোমবার মধ্যরাতে রাস্তার ধারে শুয়ে থাকা ৬০ বছরের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আরসাদ ওরফে বাবুকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মির্জাপুরে ট্র্যাক্টরের ধাক্কায় নালায় পড়ে মৃত্যু
মির্জাপুর জেলার ড্রামন্ডগঞ্জ থানার লালাপুর এলাকায় সোমবার রাতে ট্র্যাক্টর-ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরবাইকে থাকা দুই যুবক নালায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই নাগেশ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গী শ্যামসুন্দর।
পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাত ট্র্যাক্টর-ট্রলির ধাক্কাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং আহতের চিকিৎসা চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য