ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হাকিমপুর বর্ডারে বাড়ল নজরদারি
কলকাতা, ২৮ মে (হি.স.) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় গত ছয় মাসে পরিস্থিতির এক বড়সড় বদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস নাগাদ যেখানে সীমান্ত এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক হস
হাকিমপুর বর্ডারে বাড়ল নজরদারি


কলকাতা, ২৮ মে (হি.স.) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় গত ছয় মাসে পরিস্থিতির এক বড়সড় বদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস নাগাদ যেখানে সীমান্ত এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছিল, সেখানে বর্তমানে পুলিশ এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-র সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বরূপনগর থেকে হাকিমপুর সীমান্ত চৌকির (বিওপি) দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলিতে এখন বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার আগেই রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ পুলিশ ভ্যান, কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কড়া প্রহরা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সীমান্তে নজরদারি আগের চেয়ে অনেকটাই কড়া করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ এবং এসডিপিও আয়ুষ পাণ্ডে লাগাতার এলাকা পরিদর্শনে রয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরূপনগর এলাকায় আপাতত তিনটি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (আশ্রয় শিবির) তৈরি করা হয়েছে। প্রথমটি তেতুলিয়াস্থিত ‘পথের সাথী’ অতিথি আবাসে, দ্বিতীয়টি চারঘাট হাইস্কুলের কাছে নির্মিত ফ্লাড শেল্টারে এবং তৃতীয়টি মেদিয়া এলাকার একটি বিদ্যালয়ে চালানো হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ বাহিনী, অন্যদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবার নজরদারি চালাচ্ছেন আশা কর্মী ও স্থানীয় মেডিক্যাল অফিসার ড. সৌরভ আচার্য।

গত বুধবার পর্যন্ত তেতুলিয়া কেন্দ্রে ১১৬ জন, চারঘাট কেন্দ্রে ৬৩ জন এবং মেদিয়া কেন্দ্রে ৫২ জনকে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত মানুষের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মিড-ডে মিলের কর্মীদের খাবার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত তাঁদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আরও প্রায় ৭০ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসার খবর মেলা মাত্রই প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। চারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য রাজেশ মণ্ডল এবং নির্দল সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোল্ডিং সেন্টার প্রস্তুত করার নির্দেশ আসে, যার পর পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা সারারাত জেগে সমস্ত ব্যবস্থার তদারকি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সীমান্ত এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশও আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গত বছর সীমান্ত চৌকির আশেপাশে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ত, কিন্তু এবার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কার্যত দেখাই যাচ্ছে না।

আগে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে আসা মানুষদের খাওয়া-দাওয়া, থাকা এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে बातचीत করার ওপরও তাঁদের নিয়ন্ত্রণ থাকত। সেই সময় কিছু সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছিল। তবে পঞ্চায়েত বোর্ডে কোনও পরিবর্তন না হলেও, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভূত হচ্ছে।

আপাতত, গত ছয় মাসের মধ্যে হাকিমপুর সীমান্তের সামগ্রিক ছবি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। সীমান্ত পরিচালনায় প্রশাসনিক সক্রিয়তা এখন আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি দৃশ্যমান। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও মজবুত করা হয়েছে যাতে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা কার্যকরভাবে করা সম্ভব হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande