
কলকাতা, ৩ মে (হি. স.) : গণনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের একাংশকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী| রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় তিনি লিখেছেন যে - অতি সম্প্রতি আমার নজরে এসেছে যে গণনার দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক আধিকারিক তাঁদের নির্দিষ্ট ডিউটির বিবরণ, অবস্থান এবং দায়িত্বের প্রকৃতি নিজেদের দফতর-সংক্রান্ত সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনও তথ্য পেয়েছি যে বিভিন্ন স্প্রেডশিট ও তালিকা ঘুরছে, যেখানে আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে তাঁদের “নির্বাচনী ডিউটির তথ্য” —যার মধ্যে গণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত— পূরণ করে জমা দিচ্ছেন।
এটি নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের গুরুতর লঙ্ঘন, এবং এর ফলে নিম্নলিখিত বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে—
১. অযাচিত প্রভাবের ঝুঁকি: কোনও আধিকারিকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব যদি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সংগঠন বা ইউনিয়নের জানা থাকে, তবে তা অপ্রয়োজনীয় চাপ, প্রভাব খাটানো বা ভীতি প্রদর্শনের পথ খুলে দেয়।
২. নিরপেক্ষতার হুমকি: গণনা প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নির্ভর করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের তথ্যের গোপনীয়তার উপর। এই গোপনীয়তায় ফাঁক পড়লে ফলাফলের নিরপেক্ষতা সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
৩. চাপ সৃষ্টির কৌশল: এ ধরনের “তথ্য সংগ্রহ” অনেক সময় সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে আড়ালে চাপ সৃষ্টি করার একটি পদ্ধতি, যাতে গুরুত্বপূর্ণ গণনার সময়ে আধিকারিকদের উপর প্রভাব খাটানো যায়।
আমি জোর দিয়ে অনুরোধ করছি যে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক যেন অবিলম্বে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং কঠোর নির্দেশ জারি করেন— কোনও আধিকারিক যেন তাঁর নির্দিষ্ট গণনা-দায়িত্ব কোনও সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্রকাশ না করেন। একইসঙ্গে, এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে যুক্ত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত