
শিমলা, ৩০ মে (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এই পর্বে ১,১৮৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান, সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন পদে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১৭ লক্ষ ভোটার।
তবে ভোটের শুরুতেই আবহাওয়া কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিমলা-সহ রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় সকাল থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলিতে প্রথমদিকে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে ভোটগ্রহণের গতিও কিছুটা মন্থর দেখা যায়।
তীব্র গরমে জর্জরিত রাজ্যে আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনে মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ও এর প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্রামীণ এলাকায় ভোটারদের বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে ভোটদানের হার বাড়বে বলে আশাবাদী নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
হিমাচলে তিন দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবারের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজ্যের মোট ৩,৭৫৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
এই দফায় প্রধান, উপপ্রধান ও সদস্য পদে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটপর্ব শেষ হলে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের ফল ঘোষণা শুরু হবে। অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ সদস্যদের ফলাফল আগামী ৩১ মে সংশ্লিষ্ট ব্লক কার্যালয়ে ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সংবেদনশীল ও অতিসংবেদনশীল বুথগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনার ঘটনা সামনে আসায় প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দফায় প্রায় ৭৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি। যুবক-যুবতী, মহিলা ও প্রবীণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কমিশনের আশা, শেষ দফাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অংশ নেবেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জগত প্রকাশ নাড্ডা নিজের জেলা বিলাসপুরে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজয় নগর ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন।
মে মাস জুড়ে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে ছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন পদপ্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন পেতে ব্যাপক প্রচার চালান। এখন প্রচারপর্ব শেষ, সিদ্ধান্ত বন্দি হচ্ছে ব্যালট বাক্সে।
শেষ দফার ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে হিমাচল প্রদেশে স্থানীয় স্বশাসন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ারও সমাপ্তি ঘটবে। এরপর রাজ্যের ৩,৭৫৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩,৭৫৪ জন প্রধান, ৩,৭৫৪ জন উপপ্রধান এবং ২১,৬৫৪ জন সদস্য নিয়ে নতুন পঞ্চায়েত গঠিত হবে, যারা আগামী দিনে গ্রামীণ উন্নয়নের দিশা নির্ধারণ করবেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য