তামিলনাড়ুতে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি এআইএডিএমকের
চেন্নাই, ৩০ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিধায়ক কেনাবেচা বা ‘হর্স ট্রেডিং’-এর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে শাসক দল টিভিকে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বিষয়টির সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। শনিবার চেন্নাইয়
তামিলনাড়ুতে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি এআইএডিএমকের


চেন্নাই, ৩০ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিধায়ক কেনাবেচা বা ‘হর্স ট্রেডিং’-এর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে শাসক দল টিভিকে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বিষয়টির সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

শনিবার চেন্নাইয়ের রাজভবনে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকরে সঙ্গে দেখা করে এআইএডিএমকের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও বিধানসভার সচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব এবং পুরো বিষয়টি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন এআইএডিএমকে বিধায়ক এগ্রি কৃষ্ণমূর্তি, রাজ্যসভার সাংসদ এম থাম্বিদুরাই, প্রাক্তন বিধানসভার অধ্যক্ষ পি . ধনপাল-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

এআইএডিএমকের অভিযোগ, শাসক দল টিভিকে বিরোধী দলের বিধায়কদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। দলের দাবি, বিরোধী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে দলবদলে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

এগ্রি কৃষ্ণমূর্তি অভিযোগ করেন, দলত্যাগী কয়েকজন বিধায়ককে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন এআইএডিএমকে বিধায়ককে দলবদলের জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পায়। পরে কংগ্রেস, ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং বাম দলগুলির সমর্থনে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে ডিএমকে পায় ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন।

সরকার গঠনের পর আস্থা ভোটে এআইএডিএমকের কয়েকজন বিধায়ক সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। পরে দলের চার বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে টিভিকে-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়।

তবে পরে এস.পি. ভেলুমণি গোষ্ঠীর অসন্তুষ্ট বিধায়করা দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপাডি কে পালানিস্বামী-এর নেতৃত্ব মেনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও বিরোধী বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ এআইএডিএমকের।

স্মারকলিপিতে তামিলনাড়ু সচিবালয়ের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে বিরোধী দল। তাদের দাবি, সরকারি কাজের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থে সচিবালয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে বিধায়কদের রাজনৈতিক আনুগত্য বদলানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এগ্রি কৃষ্ণমূর্তি জানান, এআইএডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাডি কে. পলানিস্বামীর নির্দেশেই এই অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিধানসভার মর্যাদা রক্ষায় অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

এআইএডিএমকের অভিযোগের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও শাসক দল টিভিকে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে সকলের।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande