অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর
কলকাতা, ২১ জুন (হি.স.): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুমিত রায়ের অস্বস্তি আরও বাড়ল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে নতুন একটি এফআইআর দায়ের ক
সুমিত রায়


কলকাতা, ২১ জুন (হি.স.): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুমিত রায়ের অস্বস্তি আরও বাড়ল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে নতুন একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নামও রয়েছে।

নতুন এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শালবনী থানায় দায়ের করা জমি দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ সুমিত রায়ের সন্ধান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং দলের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলারও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে পুলিশ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল এবং তিনি পলাতক থাকায় লুকআউট নোটিশও জারি করা হয়েছিল। এরপর তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর আদালত তাঁর আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

ডেবরা থানায় দায়ের করা নতুন এফআইআর-টি গত ১৬ জুনের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অভিযোগকারী প্রসেনজিৎ রায় দাবি করেছেন যে, তাঁকে এবং আরও ১১ জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সুজয় হাজরা ১২টি সরকারি পদে নিয়োগের জন্য প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করে দাবি করেছিলেন।

অভিযোগকারীর দাবি, প্রাথমিকভাবে মোট ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর সুজয় হাজরা প্রার্থীদের ডেবরার একটি হোটেলে আশিক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। আশিক নিজেকে নবান্নের কর্মচারী বলে পরিচয় দেয় এবং প্রার্থীদের খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনেও নিয়ে যায়।

অভিযোগ, তথাকথিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ চাকরি পাননি। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে আশিক আরও টাকা দাবি করে এবং জানায় যে এই টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগীর কাছে পাঠাতে হবে।

প্রসেনজিৎ রায় আরও অভিযোগ করেছেন যে, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা আসল নিয়োগপত্রের পরিবর্তে নিয়োগপত্রের জেরক্স কপি দিয়েছিল। প্রার্থীরা চাকরি বা টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের মিথ্যা অপরাধমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় আটক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে। এর পরই ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া এই মামলা তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একাধিক মামলায় নাম জড়ানোর পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করবে এবং এই নিয়োগ চক্রের বিস্তারিত তদন্ত চালাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande