
কলকাতা, ১৫ জুলাই (হি.স.): সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে নতুন পরিচালন বিধি (এসওপি) জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে একটিও পড়ুয়া নেই (শূন্য নাম নথিভুক্তকরণ) অথবা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, সেখানকার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এমন বিদ্যালয়ে বদলি করা হবে যেখানে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, শূন্য নাম নথিভুক্তকরণ থাকা বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের বহাল রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। এই ধরণের সমস্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এমন বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করা হবে। একইভাবে, যেসব বিদ্যালয়ে নির্ধারিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শিক্ষক আছেন, সেখান থেকেও অতিরিক্ত শিক্ষকদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
এই বদলি প্রক্রিয়াটি পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে। যে সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক পিছু পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলির জন্য প্রতিটি জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ শিক্ষক-ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়গুলির তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম, জেলা, ব্লক, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের সংখ্যা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বিবরণও উল্লেখ থাকবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত শিক্ষকের তালিকায় রাখা হবে না। তবে সহকারী শিক্ষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে এবং তাঁদের বদলি করা যাবে।
পরিচালন বিধিতে আরও বলা হয়েছে, কোনও পড়ুয়াহীন বিদ্যালয় থেকে সমস্ত শিক্ষক ও কর্মী স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়ার পর, ওই বিদ্যালয়ের ভবন এবং অন্যান্য সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট সহ-বিদ্যালয় পরিদর্শকের ওপর বর্তাবে। তাঁরা বিদ্যালয়ের সম্পত্তির সম্পূর্ণ বিবরণ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে জমা দেবেন।
মাধ্যমিক স্তরের যেসব বিদ্যালয়ে কোনও পড়ুয়া নেই অথচ অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে, সেখানকার সেই পদগুলি বিলুপ্ত করে শিক্ষক-ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করা হবে।
শিক্ষা দফতরের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যে উপলব্ধ শিক্ষকদের ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, যাতে শিক্ষক সংকটের কারণে কোনও বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জ্যেষ্ঠতার নিরিখে বদলি এবং অতিরিক্ত শিক্ষক নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ার কারণে ভবিষ্যতে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি