(লিড) বিহার বন্ধে একাধিক জেলায় হিংসা: পটনায় লাঠিচার্জ, সিওয়ানে গুলি ও পাথর ছোড়াছুড়ি, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর থামল আন্দোলন
পটনা, ২৪ জুলাই (হি.স.): নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি এবং শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে শনিবার ডাকা বিহার বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ল গোটা রাজ্যে। ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকে আইসা, ইনৌস-সহ একাধ
(লিড) বিহার বন্ধে একাধিক জেলায় হিংসা: পটনায় লাঠিচার্জ, সিওয়ানে গুলি ও পাথর ছোড়াছুড়ি, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর থামল আন্দোলন


পটনা, ২৪ জুলাই (হি.স.): নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি এবং শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে শনিবার ডাকা বিহার বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ল গোটা রাজ্যে। ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকে আইসা, ইনৌস-সহ একাধিক সংগঠনের কর্মীরা সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। একাধিক জেলায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। তবে দুপুরের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসতেই অধিকাংশ এলাকায় আন্দোলন শান্ত হয়ে আসে।

পটনার ডাকবাংলো চত্বরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ

বিহার বন্ধের কথা মাথায় রেখে রাজধানী পটনায় নিরাপত্তার ব্যাপক ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। সকাল থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তা সত্ত্বেও ডাকবাংলো চত্বরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও যুব বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা সরে যেতে রাজি হননি। এরপর পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। এর পরেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ডাকবাংলো চত্বরে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা বজায় থাকে।

সিওয়ানে সবচেয়ে বেশি হিংসা, গুলিতে আহত তিন

বিহার বন্ধে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয় সিওয়ানে। সকাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলা শিক্ষার্থীদের ধর্না দুপুরের দিকে হিংসাত্মক রূপ নেয়। গান্ধী ময়দান এবং জেপি চকের আশপাশে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং গুলিও চালায়।

এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মহল্লার বাসিন্দা মহম্মদ আরিফ, উত্তর প্রদেশের রায়বরেলির বাসিন্দা আকাশ কুমার এবং বুলেট কুমার গোঁড়।

পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় পুলিশ সুপার পূরণ কুমার ঝা, এসডিপিও অজয় কুমার সিং, নগর থানার এক পুলিশ আধিকারিক, প্রায় ছ’জন পুলিশকর্মী, প্রায় এক ডজন বিক্ষোভকারী এবং পথচারী আহত হন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জনকে আটক করে। নিরাপত্তার কারণে জেলা প্রশাসন প্রায় দু’ঘণ্টা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে। গোটা শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

ছপরায় বাজার বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত

ছপরাতেও বিহার বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিক্ষোভকারীরা শহরের পশ্চিম প্রান্তের শ্যাম চক থেকে সাঁঢ়া ওভারব্রিজ পর্যন্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করেন। নিরাপত্তার কারণে সাহেবগঞ্জ, গুদরি, হাতুয়া মার্কেট এবং ডাকবাংলো রোডের দোকানপাট ও পাইকারি বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

বন্ধের জেরে অটো, ই-রিকশা এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ছাড়া অধিকাংশ বড় গাড়ির চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

ইস্তফার খবরের পর আন্দোলন প্রত্যাহার শিক্ষার্থীদের

দুপুরের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসতেই বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। মুজফ্ফরপুর, পটনা-সহ একাধিক জেলায় শিক্ষার্থীরা এটিকে নিজেদের বড় জয় বলে দাবি করে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।

তবে পূর্ণিয়া এবং কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চলতে থাকে। যদিও অধিকাংশ জেলাতেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিহার বন্ধ এবং তার জেরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande