
কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি.স.): আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তথ্য-প্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক নতুন ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর মৃত চিকিৎসকের বাবা সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ সহ তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আরজি কর কাণ্ডের পুরনো ফাইলগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত রবিবার মৃত চিকিৎসকের দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবসে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত এক শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি ঘটনা সম্পর্কিত একাধিক নতুন দিক খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে এক বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেন এবং পৃথক এফআইআর রুজু করে তদন্ত ত্বরান্বিত করতে বলেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি সভা থেকেই মৃতার শেষকৃত্য প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক মারাত্মক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ঘোলা থানা এলাকার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যের সময় নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, শ্মশানে শেষকৃত্যের নির্ধারিত তালিকায় মৃত চিকিৎসকের নাম তিন নম্বরে ছিল, কিন্তু রহস্যজনকভাবে রাতারাতি তা পরিবর্তন করে এক নম্বর তালিকায় এনে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে শেষকৃত্যের নির্দিষ্ট সরকারি ফি কেন পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি এবং মৃতার নিকটতম আত্মীয়দের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও কেন করানো হয়নি? তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় তৎকালীন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং বিষয়টি বিশদ তদন্তের দাবি রাখে।
এই সকল অভিযোগকে হাতিয়ার করেই এবার নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখার্জি সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শ্মশানের নথিপত্র, শেষকৃত্যের সময় উপস্থিত ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখবে পুলিশ। শ্মশানের সমস্ত খরচ কে বহন করেছিল এবং কেন পরিবারের থেকে ফি গ্রহণ করা হয়নি, তদন্তে তার উত্তর খোঁজা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিপূর্বেই তিনজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্যই হলো যে প্রশ্নগুলি এখনও অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে, সেগুলির সঠিক বিচার বিভাগীয় জবাব খুঁজে বার করা।
নতুন এফআইআর-এ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা একমাত্র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষেই স্পষ্টভাবে সামনে আসবে। অন্যদিকে, সিবিআই ও আদালতের নির্দেশাধীন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এই নতুন সিট-ও তাঁদের নিজস্ব তদন্তপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি