
ঝাড়্গ্রাম, ২৪ আগস্ট (হি.স.): কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা পদে দ্রুত নিয়োগ-সহ একাধিক দাবিতে সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে সামিল হলেন ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতের কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতি ও পশ্চিমবঙ্গ কর্মচারী সমিতির যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতের প্রায় ১০০ শতাংশ কর্মীই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। ফলে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন আন্দোলনকারীরা।
আদালত কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালত থেকে পৃথক হয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা আদালত তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ৬ অগস্ট নতুন আদালত ভবনের উদ্বোধন হলেও এখনও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ হয়নি। তাঁদের দাবি, আদালতের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ এখনও শূন্য রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে সেরেস্তাদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালে চালু হওয়া পারিবারিক আদালতও পর্যাপ্ত স্থায়ী ও স্বতন্ত্র কর্মী ছাড়াই চলছে। নতুন আদালত ভবনের পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন পরিষেবার কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক ও হোমগার্ডদের দিয়েও কিছু কাজ করানো হচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে কাজ করা আদালত কর্মীদের স্থায়ী করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। কর্মীদের অভিযোগ, দাবিগুলি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি।
গত ৫ আগস্ট দাবি দাওয়া নিয়ে অনশন এবং দু’ঘণ্টার কর্মবিরতিও পালন করেছিলেন আদালত কর্মীরা। কিন্তু তারপরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা বা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এবার ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের পথে হাঁটতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতির জেলা সভাপতি পলাশ বেজ, সম্পাদক সুদীপ্ত সরেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অনিমেষ বেরা বলেন, ‘‘আমাদের দাবি কোনও বাড়তি সুবিধার জন্য নয়। আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম সচল রাখা এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্যই প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী নিয়োগ জরুরি।’’ তাঁদের আরও দাবি, ধর্মঘটের কারণে বিচারপ্রার্থীদের যে সাময়িক সমস্যার মুখে পড়তে হবে, তার দায় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার উপরই বর্তাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো