মহাকাশ কর্মসূচির বেসরকারিকরণের পথে মোদী সরকার : জয়রাম রমেশ
নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (হি.স.) : ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মহাকাশ কর্মসূচির আগ্রাসী বেসরকারিকরণের পথে এগোনোর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, রকেটের উন্নয়ন ও নির্মা
মহাকাশ কর্মসূচির বেসরকারিকরণের পথে মোদী সরকার : জয়রাম রমেশ


নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (হি.স.) : ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মহাকাশ কর্মসূচির আগ্রাসী বেসরকারিকরণের পথে এগোনোর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, রকেটের উন্নয়ন ও নির্মাণে ইসরোর ভূমিকা সীমিত করার পাশাপাশি সংস্থার একাধিক উপগ্রহ-সংক্রান্ত সম্পদ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার সমাজ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়রাম রমেশ বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে ইসরোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ছয় দশকে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় ইসরো যে সক্ষমতা ও দক্ষতা গড়ে তুলেছে, তা দেশের গর্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রের মতো মহাকাশ কর্মসূচিতেও মোদী সরকার আগ্রাসী বেসরকারিকরণের পথে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রমেশের অভিযোগ, রকেটের উন্নয়ন ও নির্মাণে ইসরোর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ভাবে সীমিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্থার একাধিক উপগ্রহ-সংক্রান্ত সম্পদ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তামিলনাড়ুতে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় মহাকাশ কেন্দ্রের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে ইসরো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করছে, অথচ সেটিও কোনও বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কথা সামনে এসেছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মহাকাশ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেন জয়রাম রমেশ।

তিনি বলেন, ইসরো দেশকে গর্বিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার সংস্থার সাফল্যের কৃতিত্ব নিয়েছেন। মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব করে আসা ইসরোর সক্ষমতা দুর্বল করার প্রয়োজন কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জয়রাম রমেশের দাবি, গত কয়েক মাসে ইসরোর প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার সংস্থা ছেড়েছেন। তাঁর অনুমান, সম্ভবত আসন্ন পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁরা আঁচ করতে পেরেছিলেন।

কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, ইসরোর এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান, যিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রভাবিত হয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তিনিও ইসরোকে ঘিরে নতুন বেসরকারিকরণ উদ্যোগ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইসরোর জীবিত আরও পাঁচ প্রাক্তন চেয়ারম্যান এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন নিজেদের মত জানাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছেন না বলে স্পষ্ট করেন জয়রাম রমেশ। তাঁর বক্তব্য, ইসরোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, দক্ষতা এবং দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে তার কেন্দ্রীয় ভূমিকা দুর্বল করা হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande