
নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (হি.স.): রাজস্থানের জোজরি নদীর তীর থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, নদীর হাই ফ্লাড লাইন এবং ইকোলজিক্যাল সেফটি জোনের সীমানা নির্ধারণ ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।পরিবেশগত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আদালত জোজরি নদীর বর্তমান বন্যা-সীমা থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় বিপজ্জনক বা দূষণকারী শিল্প চালানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।এর আগে গত ২৯ মে জোজরি নদী দূষণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিল শীর্ষ আদালত। নদী দূষণের জন্য দায়ী আধিকারিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এফআইআর দায়ের এবং বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বরও জোজরি নদী দূষণমুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছিল, বছরের পর বছর বিষয়টি আদালতের নজরে থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শিল্পাঞ্চল থেকে দূষিত বর্জ্য নদীতে পড়া বন্ধ না হওয়াকে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত।আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, জোজরি নদীতে শিল্পবর্জ্য মেশার কারণে আশপাশের কয়েকশো গ্রামের জল দূষিত হয়েছে। ফলে পানীয় জলের সংকটের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বস্ত্র ও টাইলস কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।জোজরি নদীর উৎপত্তি রাজস্থানের নাগৌর জেলার পোঁডলু গ্রামের কাছে। এরপর নদীটি যোধপুর ও বাড়মের জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লুনি নদীতে মিশেছে। দূষণ রোধে ২০২২ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত বা এনজিটি যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে রাজস্থান শিল্প উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিগম-সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থা ও পুরসভা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই মামলাগুলির পাশাপাশি জোজরি দূষণ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাটিও শুনছে সুপ্রিম কোর্ট।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য