
দুর্গাপুর, ২৬ আগস্ট (হি. স.): ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষ থাকবে নিরাপদ। আর এই বিশেষ ক্যাপসুল তৈরী করে নজির গড়লেন রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের দুর্গাপুর ইস্পাতের(ডিএসপি) কর্মী অভিজিৎকুমার চন্দ। বিশেষ ক্যাপসুল তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের পেটেন্ট পেলেন অভিজিৎবাবু। তাঁর আবিষ্কারের নাম ‘সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট’। সম্প্রতি ডিএসপির ডিআইসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিআইসি সুরজিত মিশ্র অভিজিৎবাবুর হাতে শংসাপত্র তুলে দেন।
কী এই ক্যাপসুল? কার্বন ফাইবার বা স্টিলের একটি ক্যাপসুল। ভিতরে ফোমের একটি স্তর থাকবে। ভিতরে রাখা যাবে সাত দিনের শুকনো খাবার, জল, টর্চ। অক্সিজেন ঢুকতে পারবে। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাইরে থাকবে ক্যাপসুল। ভূমিকম্প হলেই এর ভেতর আশ্রয় নিতে পারবেন পরিবারেরা। আবাসন ধ্বংস হলেও লাল রঙের এই ক্যাপসুল স্প্রিংয়ের সাহায্যে ঝুলবে। নজরে পড়বে সহজেই। ২০০১ সালের ভয়াবহ গুজরাট ভূমিকম্প গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল অভিজিৎবাবুকে। ওই বছর ২৬ জানুয়ারি, সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল গুজরাট ভুজ। উৎপত্তিস্থল ছিল কচ্ছ জেলার ভচাউ তালুকের চৌবারি গ্রামের কাছে।
রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭.৭ বা ৭.৬। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যান এবং লক্ষাধিক মানুষ আহত ও গৃহহীন হন। কচ্ছ ও ভুজের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনা তাঁকে ভূমিকম্পের সময় মানুষকে সুরক্ষিত রাখার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির কথা ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় ‘সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট’-এর ধারণা। উদ্ভাবনটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেকেই তাঁর ভাবনার প্রশংসা করলেও বাস্তবে তা রূপ দেওয়ার সুযোগ দীর্ঘদিন অধরাই থেকে যায়। শেষপর্যন্ত হাল না ছেড়ে নিজের উদ্ভাবনকে পেটেন্টের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত ৬ আগস্ট ২০২৬ ভারত সরকারের কাছ থেকে তাঁর এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট মঞ্জুর হয়। পেটেন্ট পাওয়ার পর এখন তাঁর লক্ষ্য, এই আবিষ্কারকে পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে বাস্তব প্রয়োগের উপযোগী করে তোলা। অভিজিৎবাবু বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় আমার পাশে ছিল মেয়ে অঙ্কিতা। পেটেন্ট সংক্রান্ত সরকারি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আমাকে গুরুত্বপূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছে মেয়ে। এদিকে অভিজিৎবাবুর এই আবিস্কারে গর্বিত গোটা শিল্পশহরবাসী।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা