স্বাধীনতা সংগ্রামী হাইপৌ জাদোনাংয়ের ৯৫তম শহিদ দিবস পালিত
হাফলং (অসম), ২৯ আগস্ট (হি. স.): অবিস্মরণীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী হাইপৌ জাদোনাংয়ের ৯৫তম শহিদ দিবস শনিবার বোরো হাফলং হেরাকা কালচারাল ক্লাবে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। হাইপৌ জাদোনাং ট্রাস্ট কমিটির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান
Martiyars Day


Martiyars Day


হাফলং (অসম), ২৯ আগস্ট (হি. স.):

অবিস্মরণীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী হাইপৌ জাদোনাংয়ের ৯৫তম শহিদ দিবস শনিবার বোরো হাফলং হেরাকা কালচারাল ক্লাবে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। হাইপৌ জাদোনাং ট্রাস্ট কমিটির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ মেম্বার নোয়া দাইমে। এছাড়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার পৌদামিং ন্রিয়ামে-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সম্মানিত অতিথি ও বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইপৌ জাদোনাংয়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এরপর তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা হাইপৌ জাদোনাংয়ের জীবন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিরোধ এবং তাঁর আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন। ১৯৩১ সালের ২৯ আগস্ট মাত্র ২৬ বছর বয়সে ইম্ফল জেলে ব্রিটিশ প্রশাসনের হাতে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। বীর হাইপৌ জাদোনাং (১৯০৫–১৯৩১) মণিপুরের পুইলন (কামবিরন) গ্রামের এক দূরদর্শী নাগা আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি প্রথম নাগা রাজ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে জেলিয়াংরং জনগোষ্ঠীর স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

জাদোনাংয়ের বিখ্যাত ঘোষণা ছিল—‘মাকাম মেই রুই গুয়াংতু পুনি’ (মাটির সন্তানই শাসন করবে)। তিনি ‘রিফেন’ নামে একটি বাহিনী গঠন করে যুবকদের সংগঠিত করেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামরিক প্রশিক্ষণ দেন।

জাদোনাংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় উদ্বিগ্ন হয়ে তৎকালীন নাগা হিলসের ডেপুটি কমিশনার জে.পি. মিলস মণিপুরের পলিটিক্যাল এজেন্ট জে.সি. হিগিন্সকে বিষয়টি জানান। এরপর হিগিন্স কাছাড়ের ডেপুটি কমিশনার ক্রিস্টোফার গিমসনকে জাদোনাংকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

১৯৩১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি লখিপুরের পুলিশ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আলি অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর অজুহাতে সাধারণ নাগরিকের ছদ্মবেশে জাদোনাংকে প্রতারণার মাধ্যমে ডেকে আনেন। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে গিমসন গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে হিগিন্স তাঁকে মণিপুরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ১৯৩১ সালের ১ মার্চ হিগিন্স পুইলনে পৌঁছে জাদোনাংয়ের প্রার্থনাস্থল ধ্বংস করেন, স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্র লুট করেন এবং গ্রামবাসীদের ওপর নির্যাতন চালান। ৮ মার্চ জিরিঘাটে জাদোনাংকে হিগিন্সের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁকে মণিপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে ১৯৩১ সালের ১৩ জুন চারজন পান-পাতা ব্যবসায়ীর কথিত হত্যার অভিযোগে জাদোনাংকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অভিযোগকে অনেকেই সাজানো বলে মনে করেন। ১৯৩১ সালের ২৯ আগস্ট তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি শহিদের মর্যাদা লাভ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande