নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি, গ্রেফতার টেট উত্তীর্ণরা
আগরতলা, ২৯ আগস্ট (হি.স.) : টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অবিলম্বে একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচির উদ্যোগ নেন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তব
টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ


আগরতলা, ২৯ আগস্ট (হি.স.) : টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অবিলম্বে একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচির উদ্যোগ নেন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই রাজধানীর টাউন হলের সামনে থেকে তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

জানা গেছে, টেট-১ এবং টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না হওয়ায় ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি গ্রহণ করেন তাঁরা। কর্মসূচিকে সামনে রেখে এদিন রাজধানীর টাউন হলের সামনে বহু টেট উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রী সমবেত হন। বিষয়টি রাজ্য পুলিশের আইবি শাখার নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই আন্দোলনরত টেট উত্তীর্ণরা রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন। অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নিয়োগ না হওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিবাদস্থলে জনৈক টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি সাধারণ পরিবারের মেয়ে এবং তাঁর বাবা দিনমজুর। বাবার কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে পড়াশোনা করে তিনি টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেন তাঁদের নিয়োগের জন্য রাস্তায় নামতে হবে?

ওই ছাত্রী আরও দাবি করেন, শিক্ষা দফতরে কয়েক হাজার শূন্যপদ রয়েছে। সেখানে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১,৮৫৬ জন। এত সংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও ১,৮৫৬ জন টেট উত্তীর্ণকে একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়া সরকারের ব্যর্থতারই পরিচয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। একটি দ্বাদশ শ্রেণির স্কুলে আয়া দিয়ে পড়াশোনা চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চালানোর ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত টেট উত্তীর্ণদের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই টেট-১ এবং টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে একসঙ্গে চাকরিতে নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে আগামী দিনেও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিশ আন্দোলনরত টেট উত্তীর্ণদের আটক করার উদ্যোগ নেয়। টাউন হলের সামনে থেকে সমবেত চাকরিপ্রার্থীদের একে একে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

পুলিশের জনৈক আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির জন্য আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আগাম কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুলিশ তাঁদের আটক করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande